UP Politics 2027
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন এখনও কয়েক মাস দূরে। কিন্তু তার আগেই জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। ২০২৭-এর নির্বাচনে মূল লড়াই হতে পারে বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে। তবে কংগ্রেস, বহুজন সমাজ পার্টি এবং চন্দ্রশেখর আজাদের দলও সমীকরণ বদলাতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপিই কিছুটা এগিয়ে। যোগী আদিত্যনাথ এখনও দলের সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন এবং হিন্দুত্বকে সামনে রেখেই বিজেপি এগোতে চাইছে। অন্যদিকে অখিলেশ যাদব PDA সমীকরণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
২০২৭-এর লড়াইকে সামনে রেখে বিজেপি সংগঠন ঢেলে সাজাচ্ছে। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন উত্তরপ্রদেশের সাংসদদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করছেন। সূত্রের খবর, সেখানে জাতপাতের সমীকরণ এবং বুথস্তরের কর্মীদের মনোবল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিজেপির কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি যোগী আদিত্যনাথের মুখ। ২০১৭ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। প্রশাসনিক কঠোরতা এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিজেপি তাঁর ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে।
একই সঙ্গে বিজেপি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের প্রচারও বাড়াচ্ছে। রাম মন্দির এবং হিন্দুত্বের পাশাপাশি রাস্তা, পরিকাঠামো এবং শিল্প বিনিয়োগকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হচ্ছে।
তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা বিজেপিকে সতর্ক করেছে। সেই নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৩৩টি আসন পায়। সেখানে সমাজবাদী পার্টি একাই ৩৭টি আসন জেতে। কংগ্রেস পায় ছয়টি।
ফলে এবার বিজেপির সামনে বড় প্রশ্ন হল OBC এবং দলিত ভোট কতটা ধরে রাখা যাবে।
অখিলেশ যাদবের মূল অস্ত্র PDA। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত এবং সংখ্যালঘু ভোটকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কৌশল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল।
এবার অবশ্য অখিলেশ আরও বড় সামাজিক জোট তৈরি করতে চাইছেন। SP-এর লক্ষ্য শুধু যাদব এবং মুসলিম ভোটে আটকে না থেকে অন্যান্য OBC এবং দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব বাড়ানো। সম্প্রতি ব্রাহ্মণ ভোট নিয়েও SP-এর বার্তা বদলেছে।
অখিলেশ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ২০২৭-এর নির্বাচন মূলত ‘electoral equations’-এর উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ প্রার্থী নির্বাচন থেকে জোট, সব ক্ষেত্রেই জাতিগত এবং আঞ্চলিক সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে SP-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। PDA-র বাইরে আরও ভোটারকে নিজেদের দিকে টানতে হবে। বিশেষ করে উচ্চবর্ণ এবং অ-যাদব OBC ভোটে বিজেপির শক্তিশালী সংগঠনকে মোকাবিলা করতে হবে।
২০২৭-এর নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল SP এবং কংগ্রেসের আসন সমঝোতা। ২০২৪ সালে দুই দল একসঙ্গে লড়ে ৪৩টি লোকসভা আসন জিতেছিল। সেই সাফল্যই এবার জোটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বড় কারণ।
তবে বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি সহজ হবে না। কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে নিজেদের জন্য আরও বেশি আসন চাইছে। দলের রাজ্য ইনচার্জ রাজেন্দ্র পাল গৌতম সমান মর্যাদার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে অখিলেশও জোট বজায় রাখার পক্ষে। জুলাইয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ায়।
এদিকে মায়াবতীর BSP এখন আগের তুলনায় দুর্বল। ২০২৪ লোকসভায় দল কোনও আসন জিততে পারেনি। ফলে দলিত ভোটে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। BJP এবং SP-এর পাশাপাশি কংগ্রেসও সেই ভোটে প্রভাব বাড়াতে চাইছে। চন্দ্রশেখর আজাদও এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠছেন।
সব মিলিয়ে আজকের ছবি বলছে, বিজেপি এখনও এগিয়ে। কিন্তু ২০২৭-এর লড়াই মোটেও একতরফা নয়। বিজেপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক জোট ধরে রাখা। আর SP-এর সামনে সবচেয়ে বড় কাজ PDA-কে আরও বিস্তৃত করা।
শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করতে পারে তিনটি বিষয়ের উপর—OBC ভোটের দিক পরিবর্তন, দলিত ভোটের বিভাজন এবং SP-কংগ্রেস জোট কতটা কার্যকর হয়। সেই কারণে ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন শুধু BJP বনাম SP নয়। এটি হতে চলেছে জোট, জাতপাত এবং ভোট-সংহতির এক বড় পরীক্ষা।