Instagram Algorithm
দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। দুই জায়গাতেই পথে নেমেছেন তরুণ ও পড়ুয়ারা। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ছবি সামনে এসেছে। দুই আন্দোলনেই রয়েছে Gen Z-এর বড় উপস্থিতি।
তবু Instagram-এ দুই প্রতিবাদের ছবি একেবারে আলাদা। Delhi-র Jantar Mantar-এর CJP protest ছড়িয়ে পড়েছিল বিপুল গতিতে। অন্যদিকে Jharkhand-এর ছাত্র আন্দোলন তুলনায় অনেক কম visibility পেয়েছে। এই পার্থক্যই এখন তৈরি করেছে নতুন প্রশ্ন। Instagram-এর algorithm কি সত্যিই ঠিক করে দেয় কোন প্রতিবাদ বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে?
নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
Delhi-র CJP protest নিয়ে Instagram-এ ৫,২৩৯টি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টগুলি এসেছিল প্রায় ৩,১০০টি আলাদা account থেকে। সব মিলিয়ে পোস্টগুলির reach ছিল প্রায় ১.৮ কোটি। প্রতি পোস্টে engagement-ও ছিল ৩,৫০০-এর বেশি।
অন্যদিকে একই ধরনের keyword analysis-এ Ranchi protest নিয়ে পাওয়া যায় ১,০৬২টি পোস্ট। এই পোস্টগুলি এসেছিল মাত্র ২৯০টি account থেকে। সেগুলির মোট reach ছিল প্রায় ৬ লক্ষ।
অর্থাৎ পোস্টের সংখ্যাতেই বড় ফারাক। কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় reach-এর ক্ষেত্রে। Delhi-র protest-এর reach Ranchi-র তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি ছিল।
India-তে Instagram-এর বিপুল user base-এর তুলনায় Delhi protest-এর ৫,২৩৯টি পোস্টও খুবই সামান্য। তবু নির্দিষ্ট সময়ে সেই content এত বেশি মানুষের feed-এ পৌঁছেছিল যে মনে হয়েছিল Instagram জুড়ে শুধুই Jantar Mantar-এর প্রতিবাদ চলছে।
এখানেই algorithm নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ social media platform-এ কোনও পোস্ট কতজন দেখবেন, তা শুধু পোস্টের সংখ্যা দিয়ে ঠিক হয় না। Engagement, watch time, shares, interactions এবং user behaviour-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শুধু পোস্টের reach নয়। Reels-এর views-এর ক্ষেত্রেও দুই আন্দোলনের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
Delhi protest-এর reels-এর views ধীরে ধীরে বাড়ছিল। ২০ জুলাই সংঘর্ষের দিন থেকে সেই বৃদ্ধি স্পষ্ট হয়। এরপর Dharmendra Pradhan-এর পদত্যাগের দিন প্রতি reel-এর views প্রায় ৩ লক্ষে পৌঁছয়।
Jharkhand-এর ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল আলাদা। আন্দোলনের শুরুতে reels-এর views দ্রুত বাড়ে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি reel প্রায় ২.৮ লক্ষ views পেয়েছিল। কিন্তু এরপর views দ্রুত কমতে শুরু করে।
বিশেষ করে Ranchi-তে ১০ অগস্ট পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আন্দোলনের content Instagram-এর algorithm-এ প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায় দেখা গেছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। Top 100 accounts-এর পোস্ট বিশ্লেষণ করলে Jantar Mantar-এর সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি তিনটি reels-এর একটি ছিল ওই protest নিয়ে।
অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ content-ই ছিল Jantar Mantar protest-কে ঘিরে।
Jharkhand-এর ক্ষেত্রে peak-এ সেই share ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এই তথ্য অবশ্য সরাসরি প্রমাণ করে না যে Meta ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও একটি আন্দোলনকে boost করেছে। কারণ algorithm-এর কাজ অত্যন্ত জটিল। Content-এর ধরন, audience interest, engagement এবং sharing behaviour-সহ বহু factor এতে কাজ করতে পারে।
BJP নেতা Amit Malviya Instagram-এর parent company Meta-র algorithm নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
একটি X পোস্টে তিনি জানতে চান, Meta কি নির্দিষ্ট কিছু content-কে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে? অন্যদিকে কিছু content কি কম মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে?
Malviya-র অভিযোগ, Jharkhand-এর ছাত্র আন্দোলনকে Instagram-এ suppress করা হয়েছে। অন্যদিকে Jantar Mantar-এর রাজনৈতিক campaign-কে বেশি amplification দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এই অভিযোগের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। কিন্তু সেই data থেকে সরাসরি algorithmic bias বা intentional suppression প্রমাণিত হয়নি। অর্থাৎ প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু চূড়ান্ত উত্তর এখনও মেলেনি।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। Jantar Mantar-এর আন্দোলন ছিল জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক attention-এর কেন্দ্রে। তার content-এ Delhi, national politics এবং একাধিক পরিচিত public figure-এর উপস্থিতি ছিল। অন্যদিকে Jharkhand-এর আন্দোলন মূলত রাজ্যস্তরের ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে।
ফলে দুই আন্দোলনের audience interest এক ছিল না। Content creators-এর সংখ্যা এবং follower base-ও আলাদা হতে পারে। এমনকি reels-এর presentation, humour, music, memes এবং shareability-ও algorithmic performance-এ প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই শুধুমাত্র reach-এর পার্থক্য দেখে algorithm ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাত করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনই ঠিক হবে না।
তবে ঘটনাটি social media-র একটি বড় বাস্তবতা সামনে এনেছে। আজকের দিনে কোনও আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব শুধু রাস্তায় কত মানুষ নামলেন, তার উপর নির্ভর করে না।
Instagram, YouTube, Facebook এবং X-এ সেই আন্দোলন কতটা visibility পেল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনও প্রতিবাদ যদি social media feed-এ বারবার দেখা যায়, তা দ্রুত জাতীয় আলোচনায় চলে আসতে পারে। অন্যদিকে একই রকম বড় জমায়েত যদি digital visibility না পায়, তাহলে তার রাজনৈতিক প্রভাব অনেকটাই কমে যেতে পারে।
এই কারণেই Instagram algorithm নিয়ে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। Social media কি শুধু মানুষের পছন্দ প্রতিফলিত করে? নাকি algorithm সেই পছন্দকেও তৈরি করে?
বর্তমান data এই প্রশ্নের একটি definitive answer দেয় না। তবে Jantar Mantar এবং Jharkhand-এর protest-এর মধ্যে reach-এর বিপুল পার্থক্য বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
Meta-র algorithm কীভাবে এই দুই protest-এর content rank করেছিল, সেই বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই আপাতত সবচেয়ে নির্ভুল সিদ্ধান্ত হল—দুই আন্দোলনের digital visibility-তে বিশাল পার্থক্য ছিল, কিন্তু সেই পার্থক্যের সরাসরি কারণ algorithmic bias কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়।