Zelensky warns Putin
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ মোড় নিতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে প্রায় পাঁচ লক্ষ যোদ্ধাকে যুদ্ধে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেপ্টেম্বরের রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর এই নতুন মোবিলাইজেশন শুরু হতে পারে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি।
তবে এটি রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলেনস্কি এই দাবি করেছেন। ফলে এই মুহূর্তে পাঁচ লক্ষ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার স্বাধীন নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
জেলেনস্কির দাবি, পুতিন প্রকাশ্যে বড় আকারের সেনা সমাবেশ ঘোষণা করতে চাইছেন না। কারণ রুশ সমাজের মধ্যে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। পরিবর্তে অন্য পদ্ধতিতে নতুন যোদ্ধা সংগ্রহের চেষ্টা হতে পারে।
এর মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ যদি রাশিয়ার সামনের সারির পাশাপাশি দেশের ভিতরেও ক্ষয়ক্ষতির দিকে এগোয়, তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
জেলেনস্কি এর আগে ২৭ জুলাই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে পুতিনের সম্ভাব্য নতুন মোবিলাইজেশনের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রুশ প্রেসিডেন্ট ২১ সেপ্টেম্বরের ডুমা নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন।
জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া প্রকাশ্যে নতুন মোবিলাইজেশন ঘোষণা না করেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, এত বিপুল সংখ্যক নতুন সেনাকে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়া রাশিয়ার পক্ষে কঠিন হবে। ফলে প্রশিক্ষণহীন বা কম প্রশিক্ষিত সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর ফলেই রুশ সেনাবাহিনীর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
তবে এই পাঁচ লক্ষ সংখ্যাটি এখনও ইউক্রেনের একটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক দাবি। মস্কোর তরফে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও এটিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
তবে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন দু’পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সেনা সমাবেশের সম্ভাবনার খবর যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেনা সমাবেশের সম্ভাবনার পাশাপাশি আরও ভয়াবহ একটি আশঙ্কা সামনে এসেছে। সেটি হল পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা।
তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ যদি সামনের সারির ক্ষয়ক্ষতি থেকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভিতরেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দিকে যায়, তবে মস্কোর সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হতে পারে।
রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে তিনি ‘শেষ অস্ত্র’ বা ‘last resort’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফিদান জানিয়েছেন, এই সম্ভাবনা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে রাশিয়া পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে। বরং যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়েই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়া একাধিকবার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বাস্তবে সেই সীমা এখনও অতিক্রম করেনি মস্কো।
এই পরিস্থিতিতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্যায়ে ড্রোন হামলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এটি যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য দিকে, ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলেও রুশ হামলায় পাঁচ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, এক রাতের হামলায় ৪৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তার মধ্যে কতগুলি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছিল, সেই সংখ্যা মস্কো প্রকাশ করেনি।
অন্য দিকে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ১২৬টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
অর্থাৎ যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে নেই। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দূরপাল্লার ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে আরও পাঁচ লক্ষ সেনা যুদ্ধে নামানোর সম্ভাবনা সত্যি হলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কম প্রশিক্ষিত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হলে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ পরমাণু অস্ত্র নিয়ে। কারণ রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুদ্ধের বিস্তার এবং পালটা হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
এই মুহূর্তে তাই তিনটি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই কি রাশিয়া সেপ্টেম্বরের পর বড় আকারে সেনা মোবিলাইজেশন করবে? করলে সেই সংখ্যা কি পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি হবে? আর যুদ্ধ আরও তীব্র হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কতটা বাড়বে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনই নিশ্চিত নয়। তবে জেলেনস্কির সতর্কবার্তা এবং ফিদানের পরমাণু উদ্বেগ—দুই ঘটনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।