Chikungunya Cases
কেরলে দ্রুত বাড়ছে চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ। বর্ষার মরসুমে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় স্বাস্থ্য দফতর এবং চিকিৎসকেরা বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তবে দেরি হলে শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের জয়েন্টের ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়ার প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটাই একরকম হওয়ায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পর দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ অনেক সময় হঠাৎ করেই শুরু হয়।
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো উচ্চ জ্বর, যা ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি শরীরে তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে হাত-পা ও জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
অনেক শিশুর শরীরে লালচে র্যাশ, মাথাব্যথা, বমি, খিদে না পাওয়া এবং অতিরিক্ত দুর্বলতাও দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশুরা অনেক সময় ব্যথা বোঝাতে পারে না। তাই তারা অস্বাভাবিক কান্না, হাঁটতে না চাওয়া বা হাত-পা নাড়াতে অনীহা দেখালে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষাকালে জমে থাকা জলই এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান কারণ।
চিকুনগুনিয়া ছড়ায় এডিস এজিপ্টি এবং এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশার মাধ্যমে। এই একই মশা ডেঙ্গিও ছড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহর এবং গ্রাম— উভয় জায়গাতেই টব, টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, এসির ট্রে বা ছাদে জমে থাকা জল থেকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জল জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার উপর জোর দিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর দেখা দিলেই নিজেরা ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
শিশুকে পর্যাপ্ত জল, ওআরএস এবং তরল খাবার দিতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
ঘুমের সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলাতেও ফুলহাতা পোশাক পরানো, মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং ঘরের জানালা-দরজায় নেট লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়ার কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কেরলে সংক্রমণ বৃদ্ধির পর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশের অন্য রাজ্যগুলির মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।