Hamim Mandal
দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের ভিড়কে লক্ষ্য করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডল এবং ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে ধৃত তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে তদন্তকারীরা এই তথ্য পেয়েছেন বলে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা।
তবে তদন্তকারী সংস্থা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি যে হামিম সত্যিই যন্তর মন্তরে পৌঁছেছিলেন কি না বা পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন কি না। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
এসটিএফের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুধু নন, আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশ আধিকারিকও জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রায়ের ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনার সূত্র ধরেই গোটা চক্রের সন্ধান মেলে।
এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানান, তদন্তে প্রথমে একটি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট সন্দেহের তালিকায় আসে। সেই অ্যাকাউন্টটি ছিল অর্পিতা সরকারের নামে। এরপর সেই সূত্র ধরে তদন্তকারীরা হামিম মণ্ডলের কাছে পৌঁছন।
অর্পিতাকে শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হামিম ও অর্পিতার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসটিএফের দাবি, গত কয়েক মাসে অর্পিতার মাধ্যমে হামিম নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং যোগাযোগের জাল বিস্তার করার চেষ্টা করছিল।
জেরায় হামিমের মোবাইল এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ‘রাণা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে একাধিক অনলাইন হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন।
এসটিএফের দাবি, এই হ্যান্ডলগুলি পাকিস্তান-ভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে মৌলবাদী প্রচার চালানো হত এবং তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হত।
প্রথমে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ শুরু হলেও পরে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের এনক্রিপ্টেড চ্যাটে কথাবার্তা চলত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ড ব্যবহার করেও যোগাযোগ করা হত বলে দাবি করেছে এসটিএফ।
এসটিএফ জানিয়েছে, হামিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশ্লেষণ, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেছে, আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলবে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে তদন্তের পর্যায়ের তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত।