Uzair Baloch Brother
পাকিস্তানের করাচির কুখ্যাত লিয়ারি এলাকায় ফের রক্তাক্ত হামলার ঘটনা সামনে এল। পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার উজাইর বালোচের ভাই জুবায়ের বালোচকে (Uzair Baloch Brother) লক্ষ্য করে একদল বন্দুকধারী গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় করাচির লিয়ারি এলাকায় জুবায়ের বালোচের উপর হামলা হয়। মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
হামলার পরেই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
করাচি পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গ্যাং-দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা পুরনো অপরাধচক্রের প্রতিশোধ—সব দিক থেকেই তদন্ত চলছে।
লিয়ারি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে একাধিক গ্যাংয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে জুবায়ের বালোচের উপর হামলাকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাইছে না তদন্তকারীরা।
পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
উজাইর বালোচ একসময় করাচির লিয়ারি এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘পিপলস আমন কমিটি’-র নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাকিস্তানে তাঁর বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, সন্ত্রাসবাদ এবং সংগঠিত অপরাধ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
২০১৬ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে সামরিক আদালতের বিচারে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি করাচি সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। তাঁর অপরাধচক্র ভেঙে দেওয়া হলেও তাঁর নাম এখনও পাকিস্তানের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত পরিচয়।
জুবায়ের বালোচের উপর সাম্প্রতিক হামলার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিয়ারির অপরাধচক্র এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনায় করাচির গ্যাং-সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।