Secret Oil Pipeline
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ। হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির স্বাভাবিক পথ বাধার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় একসময় ইরান ও ইজরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি গোপন তেল পাইপলাইন আবার আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে এই রুটই সৌদি আরবের জন্য বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে।
ষাটের দশকের শেষ দিকে, ইরানের শাহ সরকারের সময় ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইলাত-আশকেলন পাইপলাইন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় পারস্য উপসাগর থেকে তেল এনে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই রুট ব্যবহৃত হতো।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ফলে এই যৌথ প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তবে পাইপলাইনটি এখনও বিদ্যমান এবং বিভিন্ন সময়ে বিকল্প রুট হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই ইতিহাস আবারও সামনে এসেছে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত, হুথি হামলা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংকটের কারণে সৌদি আরবকে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদির পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত থাকা ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে ইজরায়েলের পুরনো পাইপলাইন ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
যদি হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইউরোপে তেল পৌঁছানোর নতুন করিডর তৈরি হলে পরিবহন ব্যয় কমানো এবং সরবরাহ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরও বড় অংশ। অতীতে তৈরি হওয়া একটি গোপন পাইপলাইনও আজ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী দিনে সৌদি আরব এই বিকল্প রুট ব্যবহার করবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।