Houthis War
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যত গভীর হচ্ছে, ততই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গাজা যুদ্ধের পর থেকে লোহিত সাগরে একের পর এক হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইরান-সমর্থিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে তাদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণেও হুথিরা এই সংঘাতে নিজেদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছে।
হুথি আন্দোলনের মূল পরিচয় ইয়েমেনের জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে। তারা নিজেদের ইরান-ঘনিষ্ঠ “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স”-এর অংশ বলে মনে করে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উপর সামরিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হুথিরাও নিজেদের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক করেছে। তবে তারা নিজেদের সরাসরি ইরানের ‘প্রক্সি’ বলতে নারাজ।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হল বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ও লোহিত সাগর। এই রুট দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়। হুথিদের হামলার ফলে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জলপথে চাপ সৃষ্টি করে হুথিরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের বিষয় নয়। এটি এখন পুরো পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণের অংশ। সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে হুথিদের ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে ইয়েমেনে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর আশঙ্কাও বাড়ছে। জাতিসংঘ এখনও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের সামরিক পদক্ষেপ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াই নয়, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।