CJP Parliament March
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীর যন্তর মন্তরে জড়ো (CJP Parliament March) হন। সেখান থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও দিল্লি পুলিশ বলেছে, তারা কেবলমাত্র আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে Cockroach Janta Party (CJP) নামে পরিচিত যুব আন্দোলন। সাম্প্রতিক NEET পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংসদে তাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতেই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, সংসদমুখী মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন দিল্লি জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংসদ ভবন, জন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেশ কয়েকটি রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। কোথাও কোথাও মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় যাতে গুজব বা উত্তেজনা না ছড়ায়।
সকাল থেকেই হাজার হাজার ছাত্র, যুবক, চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে তাঁরা সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। এরপরই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীরা অনুমতি ছাড়া সংসদের দিকে এগোচ্ছিলেন এবং নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমিত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট আশ্বাস পেলে তিনি অনশন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিন এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক গুরুত্বও পেয়েছে। বিরোধী দলের একাধিক নেতা আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, শিক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আইন নিজের পথে এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-যুব আন্দোলনের অন্যতম বড় প্রকাশ এই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি। দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এত বড় সমাবেশ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বিভিন্ন পর্যায়ে চলবে।