Bankipur Bypoll BJP
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বিহারের বহুচর্চিত বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক নাটক শুরু হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই প্রার্থী বদল করেছে বিজেপি। প্রথমে ঘোষণা করা প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা (বন্টি) মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই সরে দাঁড়ান। এরপর দ্রুত নীরজ কুমার সিনহা-কে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
বিজেপি প্রথমে যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। তিনি মনোনয়নও জমা দেন। কিন্তু মাত্র এক দিনের মধ্যেই ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এরপরই বিজেপি নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। এই দ্রুত পরিবর্তন বিরোধীদের হাতে বড় রাজনৈতিক ইস্যু তুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি এমন একজন প্রার্থী চাইছিল, যিনি বাঁকিপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে আরও গ্রহণযোগ্য হতে পারেন। সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জল্পনা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার অতীত রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা মহলে জল্পনা চলছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে কোনও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিহারের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক বহু সময় নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক হিসাব থাকতে পারে।
এই উপনির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আরেকটি কারণে। জন সুরাজ পার্টি গঠনের পর এটি প্রশান্ত কিশোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই। তিনি এই নির্বাচনকে বিহারের বর্তমান সরকারের কাজের ওপর “জনমত সংগ্রহ” বা গণভোট হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বিজেপির প্রার্থী পরিবর্তনের পর প্রশান্ত কিশোরও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তন প্রমাণ করে বিজেপি আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে। তিনি বলেন, কোনও আসনই কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘদিন বিজেপির দখলে ছিল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ফলাফল শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল হবে না। এটি বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতারও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর ভোটারদের দিকে। বিজেপির শেষ মুহূর্তের এই কৌশল কতটা সফল হবে, নাকি প্রশান্ত কিশোর নিজের প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষায় চমক দেখাবেন—সেই উত্তর মিলবে ফল প্রকাশের দিন।