Indian techie wife murder US
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের এক মহিলার কাছে মৃতদেহের ছবি পাঠিয়েছিলেন। প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
মার্কিন পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর অভিযুক্ত অবিনাশ নার্নে (Avinash Narne) জরুরি পরিষেবা ৯১১-এ ফোন করে জানান, তাঁর স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনি (Raajitha Sabbineni) বাথরুমের ভেতরে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং দরজা খুলছেন না।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ২৭ বছর বয়সী রাজিথাকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হলেও পরদিন ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের আগেই ভারতের এক মহিলার সঙ্গে অবিনাশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, বিয়ের পরও সেই সম্পর্ক বজায় ছিল এবং হত্যার দিন ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন তিনি।
চার্জিং ডকুমেন্টে আরও দাবি করা হয়েছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর অভিযুক্ত ভারতের ওই মহিলার কাছে মৃতদেহের একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোন, মেসেজ এবং ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগে রাজিথা তাঁর পরিচিতদের পাঠানো একাধিক বার্তায় অভিযোগ করেছিলেন, স্বামীর তৈরি কিছু স্মুদির স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো লাগছিল। মৃত্যুর দিনও তিনি একটি বার্তায় লিখেছিলেন, পানীয়টির স্বাদ “ওষুধ” বা “কাশির সিরাপ”-এর মতো। যদিও ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও এই বার্তাগুলিকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ।
প্রায় নয় মাস ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের পর অবিনাশ নার্নেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বন্ডের শর্তে হেফাজতে রয়েছেন। আগামী দিনে আদালতে মামলার বিস্তারিত শুনানি হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মামলাটি এখনও বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ বলেই বিবেচিত হবেন। তদন্তকারী সংস্থা এখনও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রমাণ আদালতে পেশ করা হতে পারে।