Pakistan Occupied Kashmir
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (Pakistan Occupied Kashmir)-এ ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনের ২২তম দিনে হাজার হাজার মানুষ রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়ে দাবি করেন, এই অঞ্চল পাকিস্তানের অংশ নয়। একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করে বলেন, ইসলামাবাদ যদি মানুষের দাবি উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের পথও বিবেচনা করা হতে পারে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর রাজনৈতিক অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বিস্ফোরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ৫ জুন থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আন্দোলনের অন্যতম নেতা সরদার আমান খান বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়। তাঁর অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই অঞ্চলকে শুধুমাত্র সম্পদ আহরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে, কিন্তু মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করছে না। তিনি আরও দাবি করেন, খাদ্য ও জরুরি পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে মানুষ বিকল্প সহায়তার পথ খুঁজতে বাধ্য হবে।
এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে Awami Action Committee (AAC)। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে ৩৮ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাওয়ালাকোট ছাড়াও একাধিক শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নারী ও শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অন্যদিকে পাকিস্তান অঞ্চলটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই PoK-এ ক্রমবর্ধমান জনবিক্ষোভ এবং স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।