Shashi Tharoor Narendra Modi Meeting
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে ঘিরে কংগ্রেসের ভিতরে মতপার্থক্যের অভিযোগ তুলে নতুন করে আক্রমণ শানাল বিজেপি। কারণ, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। আর সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা (Shashi Tharoor Narendra Modi Meeting) করেছে বিজেপি।
সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকের পর কংগ্রেসের একাংশ প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করে দাবি করে যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে যথেষ্ট জোরালো অবস্থান নেননি।
তবে শশী থারুর ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থারুরের মতে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারের সঠিক পদক্ষেপকে সমর্থন করা উচিত। তিনি মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন।
এরপরই বিজেপি তীব্র আক্রমণ শুরু করে। দলের মুখপাত্ররা দাবি করেন, থারুরের মন্তব্যে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মিল খায় না। বিজেপির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান বিভ্রান্তিকর। তাঁরা বলেন, কংগ্রেসেরই একজন জ্যেষ্ঠ নেতা যখন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে সমর্থন করছেন, তখন রাহুল গান্ধীর সমালোচনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থারুরের মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরে ভিন্নমত নতুন নয়। অতীতেও একাধিক ইস্যুতে শশী থারুর দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে মত প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু বিজেপি-কংগ্রেস সংঘাতকেই উসকে দেয়নি, বরং কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।