• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
US-Iran Peace Deal

শুক্রবারই কি শেষ হবে আমেরিকা-ইরান সংঘাত? শান্তিচুক্তির খসড়ায় ১৪ শর্ত, নজরে হরমুজ় ও লেবানন

প্রায় সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের পর শান্তিচুক্তির পথে আমেরিকা ও ইরান। ১৪ দফা খসড়ায় হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

শুক্রবারই কি শেষ হবে আমেরিকা-ইরান সংঘাত? শান্তিচুক্তির খসড়ায় ১৪ শর্ত, নজরে হরমুজ় ও লেবানন

US-Iran Peace Deal

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 15, 2026 11:53 am
  • Update:June 15, 2026 11:53 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির পথে হাঁটতে চলেছে আমেরিকা ও ইরান। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও চুক্তির (US-Iran Peace Deal) শর্তাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, ইরানের সংবাদসংস্থা ‘মেহর’-এর একটি প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ১৪ দফা সমঝোতার খসড়া সামনে এসেছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের উপর আর্থিক ও জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ় প্রণালীতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির উপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তি (NPT)-এর আওতায় ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে। পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিন ধরে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।

তবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরই হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। ফলে শুক্রবারের আগে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

শান্তিচুক্তির পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে ইজ়রায়েলের ভূমিকা। রবিবারও লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজ়বুল্লার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। অথচ লেবানন ইস্যুকে শান্তিচুক্তির অংশ করার দাবি বারবার জানিয়েছে তেহরান। ফলে আগামী কয়েকদিনে ইজ়রায়েলের অবস্থান এবং হিজ়বুল্লার প্রতিক্রিয়া চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে শুধু আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও খবর