• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
TMC MP Rebellion

তৃণমূলে কি ‘মহারাষ্ট্র মডেল’? ১৯ সাংসদ নিয়ে জল্পনায় রাজনৈতিক মহল

তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন সাংসদের বিদ্রোহের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য। ইউসুফ পাঠান, শত্রুঘ্ন সিনহা ও সায়নী ঘোষের নাম উঠে আসলেও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

তৃণমূলে কি ‘মহারাষ্ট্র মডেল’? ১৯ সাংসদ নিয়ে জল্পনায় রাজনৈতিক মহল

TMC MP Rebellion

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 9, 2026 2:21 pm
  • Update:June 11, 2026 5:25 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহ সংক্রান্ত জল্পনা। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দলের ১৯ জন লোকসভা সাংসদ একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের (TMC MP Rebellion) উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ভাঙনের কথা স্বীকার করা হয়নি।

সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বসিরহাটের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দলের একাধিক অসন্তুষ্ট সাংসদ। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, লোকসভায় পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চলছে।

যে তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেখানে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়-সহ একাধিক পরিচিত মুখের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

এদিকে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে সাংসদদের সঙ্গে একাধিক স্তরে আলোচনা চালানো হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের লক্ষ্য, সংসদীয় দলের মধ্যে সম্ভাব্য বিভাজন রুখে ঐক্য বজায় রাখা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ১৯ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী (TMC MP Rebellion) গঠনের পথে এগিয়ে যান, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হবে। কারণ লোকসভায় বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সেই শক্তির ভিত নড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে সংসদের অঙ্কেও।

তবে পরিস্থিতির আরেকটি দিকও রয়েছে। বিদ্রোহের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কয়েকজন সাংসদ নিজেদের নাম জড়ানো নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। কেউ কেউ দলের প্রতি আনুগত্যের কথাও জানিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের প্রকৃত শক্তি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়ে বিতর্ক এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণের মধ্যেই এই সংকট সামনে এসেছে। আগামী কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে, এটি নিছক রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, নাকি সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড় ধরনের ভাঙনের সূচনা।

আরও খবর