Hyderabad Pub Sex Racket
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: অপরাধ দমনে পুলিশের অভিনব কৌশল নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সেই কৌশলই শিরোনামে এনে দিল হায়দরাবাদের এক মহিলা আইপিএস অফিসারকে। সাধারণ গ্রাহকের ছদ্মবেশে একটি জনপ্রিয় পাবে ঢুকে পরিস্থিতি খতিয়ে (Hyderabad Pub Sex Racket) দেখলেন তিনি। এরপর তাঁর নেতৃত্বে চালানো হল বিশেষ অভিযান। পুলিশের দাবি, অভিযানে সামনে এসেছে অবৈধ যৌন ব্যবসা, নাবালকদের প্রবেশ এবং একাধিক প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ।
ঘটনাটি হায়দরাবাদের কুকাটপল্লি এলাকার। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে, এলাকার একটি জনপ্রিয় পাবে নিয়মবহির্ভূত নানা কার্যকলাপ চলছে। অভিযোগ ছিল, রাতের আড়ালে সেখানে অবৈধ যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরাসরি ময়দানে নামেন কুকাটপল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) Riti Raj।
পুলিশ সূত্রের দাবি, কোনও বড়সড় অভিযান চালানোর আগে তিনি নিজেই সাধারণ এক ক্রেতার ছদ্মবেশে ওই পাবে প্রবেশ করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে পাবের পরিবেশ, কর্মীদের আচরণ এবং সেখানে চলা বিভিন্ন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ অভিযান।
গভীর রাতে পুলিশ হানা দেয় কুকাটপল্লির Kings and Queens Pub, যা ‘ক্লাব মস্তি’ নামেও পরিচিত। অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত বহু ব্যক্তি ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। বিভিন্ন নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানে অবৈধ যৌন ব্যবসার কার্যকলাপ চলছিল। পাশাপাশি সেখানে নাবালকদের প্রবেশেরও প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কারণ, আইন অনুযায়ী নাবালকদের এ ধরনের বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে লাইসেন্স এবং অনুমোদন সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন। পুলিশের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় পুলিশ ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) ছিল না। শুধু তাই নয়, মদ পরিবেশন ও খাবার বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু অপরাধমূলক অভিযোগ নয়, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হায়দরাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময় সামনে এল, যখন হায়দরাবাদে আন্ডারকভার পুলিশি তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি শহরের নারী নিরাপত্তা যাচাই করতে আরেক মহিলা পুলিশ আধিকারিক B Sumathi সাধারণ মহিলার ছদ্মবেশে রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছিলেন। পরে তিনি জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিকবার হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সেই ঘটনার পর থেকেই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাতের বিনোদন কেন্দ্রগুলির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক অভিযানের পর কুকাটপল্লি ও আশপাশের এলাকায় থাকা পাব, বার এবং নাইটলাইফ কেন্দ্রগুলির উপরও বিশেষ নজরদারি (Hyderabad Pub Sex Racket) শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের আকস্মিক অভিযান চালানো হবে।
প্রশাসনের বক্তব্য, শহরের বিনোদন শিল্পের বিকাশকে স্বাগত জানানো হলেও কোনও অবস্থাতেই আইনভঙ্গ, মানবপাচার বা অবৈধ কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে আরও নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।