• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Islam Friendly Gym Kerala

‘ইসলাম-ফ্রেন্ডলি’ জিম ঘিরে বিতর্ক কেরলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা

কেরলের একটি ‘ইসলাম-ফ্রেন্ডলি’ জিমকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আলাদা সময়সূচি, সংগীত নিষিদ্ধকরণ এবং ধর্মীয় নীতিমালা মেনে পরিচালনার দাবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা।

‘ইসলাম-ফ্রেন্ডলি’ জিম ঘিরে বিতর্ক কেরলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা

Islam Friendly Gym Kerala

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 4, 2026 10:53 am
  • Update:June 4, 2026 10:53 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কেরলের পালাক্কাড়ে একটি ‘ইসলাম-ফ্রেন্ডলি’ জিমকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় জিমটির নিয়মকানুন ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে মতামতের ঝড় উঠেছে। কেউ এটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি সমাজকে আরও বিভক্ত করার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমটি নতুন কিছু নিয়ম চালু করেছে, যা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই নিয়মগুলির মধ্যে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ, জিমের ভিতরে সংগীত না বাজানো, শালীন পোশাক পরিধানের ওপর জোর এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা। জিম কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক মুসলিম নারী ও পুরুষ ধর্মীয় কারণে প্রচলিত জিমে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয় যে জিমটি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য পরিচালিত হবে। এই দাবি সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যদি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে তা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পরিপন্থী হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য এমন পরিষেবা থাকতেই পারে এবং সেটিকে বৈষম্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।

জিমের মালিক অবশ্য বিতর্কের জবাব দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক বা বিভাজনমূলক উদ্যোগ নয়। বরং এমন মানুষদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যারা ইসলামী নীতিমালা মেনে শরীরচর্চা করতে চান। তিনি আরও জানান, আগে জিমটি সাধারণ নিয়মেই চলত, পরে গ্রাহকদের চাহিদার ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর জাতীয় স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা পরিষেবা চালু করা নতুন বিষয় নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য জিম, ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের জন্য আলাদা পরিষেবা রয়েছে। তবে যখন কোনও উদ্যোগ জনপরিসরে আসে, তখন তা নিয়ে মতবিরোধ হওয়াও স্বাভাবিক।

অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যচর্চা ও ফিটনেস এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের বিভাজনের বদলে সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত। তাঁদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, কেরলের এই ‘ইসলাম-ফ্রেন্ডলি’ জিম এখন শুধু একটি ফিটনেস সেন্টার নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।

আরও খবর