Kerala Toddler Murder
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলার নেদুমাঙ্গাডে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে, ছোট্ট আরশিদের শরীরে ছিল মোট ৯১টি আঘাতের চিহ্ন, যার মধ্যে ৭টি পাঁজরের হাড় ভাঙা, মাথার খুলির ভেতরে রক্তক্ষরণ এবং একাধিক অভ্যন্তরীণ আঘাত ছিল। তদন্তকারীদের মতে, শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন (Kerala Toddler Murder) করা হয়েছিল।
পুলিশের অভিযোগ, এই নির্যাতনের জন্য দায়ী শিশুটির মায়ের লিভ-ইন সঙ্গী আশকার। ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের পানাভুর এলাকায়। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রায় এক মাস ধরে শিশুটির উপর শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত সেই নির্যাতনই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, আরশিদের বুকে জোরে পা দিয়ে চাপ দেওয়ার ফলে তার সাতটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, মাথা ও বুকে মারাত্মক আঘাতই শিশুটির মৃত্যুর প্রধান কারণ।
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, শিশুটির যৌনাঙ্গ এবং ডান পায়ের পাতায় পোড়ার দাগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সিগারেট লাইটার ব্যবহার করে এই পোড়া ক্ষত তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ মনে করছে, এগুলি একদিনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের প্রমাণ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেই শিশুটির দুই হাত প্লাস্টারে মোড়া ছিল। প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত দাবি করেছিল যে শিশুটি সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছে। কিন্তু এখন পুলিশ মনে করছে, সেই আঘাতগুলিও নির্যাতনের ফল হতে পারে।
জিজ্ঞাসাবাদে আশকার স্বীকার করেছে যে সে আরশিদকে নিজের ও শিশুটির মায়ের সম্পর্কের পথে বাধা হিসেবে দেখত। পুলিশের দাবি, সে কয়েক মাস আগেই শিশুটিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনার দিন শিশুটি জোরে কাঁদতে শুরু করলে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বলা হয় যে শিশুটি খাবার খেতে গিয়ে শ্বাসরোধে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
এদিকে শিশুটির মা অখিলাও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি বহুবার তাঁর ছেলেকে মারধর করতে দেখেছেন, কিন্তু তাকে রক্ষা করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধেও আরও কঠোর ধারায় মামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কেরলজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুর প্রতি এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে।