Switzerland Traffic Fine Indian Tourist
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের স্মৃতি সাধারণত আনন্দেরই হয়। কিন্তু সুইৎজারল্যান্ড সফর শেষে এক ভারতীয় পর্যটকের ক্ষেত্রে সেই স্মৃতি পরিণত হয়েছে বড়সড় আর্থিক ধাক্কায়। কারণ, ভ্রমণ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পর তাঁর বাড়িতে পৌঁছেছে প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকার ট্র্যাফিক জরিমানার (Switzerland Traffic Fine Indian Tourist) নোটিস। আর সেই ঘটনাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘Poan Sapdi’ নামে এক ভারতীয় মহিলা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করে জানান, সুইৎজারল্যান্ড সফরের অনেক মাস পরে তিনি একটি ট্র্যাফিক ভায়োলেশনের নোটিস পেয়েছেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ টাকা। পরে নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, মোট অঙ্কটি আসলে ১.৫ লক্ষ টাকারও বেশি।
নিজের পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে আসা এই জরিমানার (Switzerland Traffic Fine Indian Tourist) বিরুদ্ধে আপিল, জরিমানা কমানো বা মকুবের কোনও সুযোগ আছে কি না। একই ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কারও পরামর্শও চান তিনি। তাঁর পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং লক্ষাধিক মানুষ সেটি দেখেন।
পরবর্তী পোস্টে ওই পর্যটক জানান, জরিমানা সংক্রান্ত নথি ও পেমেন্টের তথ্য ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। সেই তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আরও বেশি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ জানিয়েছেন, জার্মানি সফরের পর স্পিড লিমিট ভাঙার কারণে জরিমানা (Switzerland Traffic Fine Indian Tourist) দিতে হয়েছিল। আবার কেউ বলেছেন, সুইৎজারল্যান্ড বা ইউরোপের অন্য দেশে ভ্রমণের কয়েক মাস পরও ট্র্যাফিক ফাইন এসে পৌঁছেছে। অনেকের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার কারণে ট্র্যাফিক আইন অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।
কয়েকজন ব্যবহারকারী ওই পর্যটককে জরিমানা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জরিমানা উপেক্ষা করলে অতিরিক্ত সুদ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে শেনজেন ভিসা বা ইউরোপ সফরের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইৎজারল্যান্ডে ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ অনেক সময় অপরাধের মাত্রা, গাড়ির ধরন এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। গুরুতর গতিসীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা, ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা এমনকি আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিল, বিদেশে গাড়ি চালানোর সময় স্থানীয় ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা কতটা জরুরি। ভ্রমণ শেষ হয়ে গেলেও আইন ভাঙার হিসাব অনেক সময় মাসের পর মাস পরে এসে হাজির হতে পারে। আর সেই কারণেই বিদেশ সফরে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীরা।