• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Google Mosquito Project

মশার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লক্ষ ‘সৈন্য’ নামাচ্ছে গুগল! রোগ ঠেকাতে অভিনব প্রকল্পে চাঞ্চল্য

ডেঙ্গু, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ঠেকাতে অভিনব পরিকল্পনা Google-এর! যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ২০ লক্ষ বিশেষ পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে সংস্থাটি। কী এই Wolbachia প্রযুক্তি? কেন এত আলোচনা? জানুন বিস্তারিত।

মশার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লক্ষ ‘সৈন্য’ নামাচ্ছে গুগল! রোগ ঠেকাতে অভিনব প্রকল্পে চাঞ্চল্য

Google Mosquito Project

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 31, 2026 4:24 pm
  • Update:May 31, 2026 4:24 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক অভিনব এবং নজিরবিহীন পরিকল্পনা (Google Mosquito Project) নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট Google। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে। লক্ষ্য—ডেঙ্গু, জিকা, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার কমানো। এই প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, Google-এর দীর্ঘদিনের গবেষণা উদ্যোগ ‘Debug Project’-এর অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছরে ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ লক্ষ পুরুষ মশা ছাড়া হবে। তবে এগুলি সাধারণ মশা নয়—এদের শরীরে থাকবে Wolbachia নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া, যা তাদের প্রজনন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ ব্যাকটেরিয়া বহনকারী পুরুষ মশা যখন বন্য পরিবেশের স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন সেই স্ত্রী মশার ডিম ফুটবে না। ফলে ধীরে ধীরে সংশ্লিষ্ট মশার প্রজাতির সংখ্যা কমতে শুরু করবে। এর মাধ্যমে রোগ ছড়ানো মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায় এবং রোগ ছড়ায়। Google যে পুরুষ মশাগুলি ছাড়তে চায়, তারা মানুষকে কামড়াবে না। ফলে অতিরিক্ত মশা ছাড়ার ফলে মানুষের উপর সরাসরি আক্রমণ বা কামড়ের ঝুঁকি বাড়বে না বলে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ডেঙ্গু, জিকা, ইয়েলো ফিভার, সেন্ট লুইস এনসেফালাইটিস এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো রোগ প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক এলাকায় মশার বিস্তার দ্রুত বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

Google-এর এই পরিকল্পনা এখন মার্কিন Environmental Protection Agency (EPA)-র পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সংস্থাটি জনমত সংগ্রহ করছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ অনেক পাখি, মাছ এবং অন্যান্য প্রাণী খাদ্য হিসেবে মশার উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্যের উপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি এই প্রযুক্তি (Google Mosquito Project) সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বের বহু দেশেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও জিকার মতো রোগে আক্রান্ত দেশগুলির জন্য এটি বড় আশার খবর হতে পারে।

প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং জনস্বাস্থ্যের সমন্বয়ে তৈরি Google-এর এই প্রকল্প এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী দিনে EPA-এর সিদ্ধান্ত এবং প্রকল্পের বাস্তব ফলাফলই নির্ধারণ করবে, মশার বিরুদ্ধে এই ‘৩ কোটি ২০ লক্ষ সৈন্যের বাহিনী’ কতটা কার্যকর হতে পারে।

আরও খবর