• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Kewal Singh Dhillon

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে, এবার পাঞ্জাব বিজেপির দায়িত্বে কেবল সিং ধিলোঁ

২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক চাল বিজেপির। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা কেবল সিং ধিলোঁকে পাঞ্জাব বিজেপির নতুন সভাপতি করা হলো। কেন তাঁর উপর ভরসা করল বিজেপি? জানুন বিস্তারিত।

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে, এবার পাঞ্জাব বিজেপির দায়িত্বে কেবল সিং ধিলোঁ

Kewal Singh Dhillon

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 31, 2026 3:57 pm
  • Update:May 31, 2026 3:57 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা ও বারনালা কেন্দ্রের সাবেক বিধায়ক কেবল সিং ধিলোঁকে (Kewal Singh Dhillon) পাঞ্জাব বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছে দল। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মহলে বিজেপির ‘শিখ ভোটব্যাঙ্ক কৌশল’-এর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, পাঞ্জাব বিজেপির ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জাট শিখ নেতাকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে পাঞ্জাবে বিজেপির নেতৃত্ব মূলত হিন্দু মুখদের হাতেই ছিল। কিন্তু আগামী নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রভাবশালী জাট শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ধিলোঁর উপর আস্থা রেখেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

কেবল সিং ধিলোঁ একসময় পাঞ্জাব কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি ২০০৭ ও ২০১২ সালে বারনালা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সাঙ্গরুর কেন্দ্র থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Bhagwant Mann-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যদিও পরাজিত হন। পরে ২০২২ সালে কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনের আবহে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ধিলোঁকে বেছে নেওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তিনি মালওয়া অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা, যা পাঞ্জাব রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং কৃষক পরিবারের প্রতিনিধি। ফলে শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি।

এই পদে ধিলোঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা আলোচনায় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Ravneet Singh Bittu, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী Manpreet Singh Badal এবং প্রাক্তন বিধায়ক Rana Gurmeet Singh Sodhi। তবে শেষ পর্যন্ত ধিলোঁর নামেই সিলমোহর দেয় বিজেপি নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে জোট ভাঙার পর পাঞ্জাবে বিজেপি এখনও স্বাধীনভাবে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে পারেনি। বিশেষ করে গ্রামীণ শিখ ভোটারদের মধ্যে দলের প্রভাব সীমিত। ধিলোঁর নেতৃত্বে সেই অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে বিজেপি।

তবে এই নিয়োগ ঘিরে দলীয় অন্দরে কিছু অসন্তোষও প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Captain Amarinder Singh জানিয়েছেন, ধিলোঁকে সভাপতি করার বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নেওয়া হয়নি এবং এই সিদ্ধান্তে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাঁর এই মন্তব্য পাঞ্জাব বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন কেবল সিং ধিলোঁ। ইতিমধ্যেই তিনি ডেরা বিয়াসে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কেবল সিং ধিলোঁর নিয়োগ শুধু সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, বরং ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে পাঞ্জাবে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

আরও খবর