• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Jalpaiguri Brazil House

জলপাইগুড়িতে ‘ব্রাজিল হাউস’, বিশ্বকাপ এলেই হলুদ-সবুজ রঙে সেজে ওঠে স্বপ্নের বাড়ি

জলপাইগুড়ির মাসকালাইবাড়ির ‘ব্রাজিল হাউস’ এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ। বাবা রঞ্জন পাল ও তাঁর ছেলে রিজুর ফুটবলপ্রেমে হলুদ-সবুজ রঙে সেজে ওঠা এই বাড়ি যেন এক টুকরো ব্রাজিল।

জলপাইগুড়িতে ‘ব্রাজিল হাউস’, বিশ্বকাপ এলেই হলুদ-সবুজ রঙে সেজে ওঠে স্বপ্নের বাড়ি

Jalpaiguri Brazil House

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 14, 2026 8:31 pm
  • Update:June 14, 2026 8:31 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় বাড়ির চেহারা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে হলুদ-সবুজের আবহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ব্রাজিলের কোনও শহরতলির বাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের মাটিতে। জলপাইগুড়ি শহরের মাসকালাইবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘ব্রাজিল হাউস’ (Jalpaiguri Brazil House) নামে।

কানাডায় শুরু হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতোই বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতেছেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা রঞ্জন পাল। তবে তাঁর ফুটবলপ্রেম শুধুমাত্র টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। নিজের বাড়িকেই তিনি সাজিয়ে তুলেছেন প্রিয় দল ব্রাজিলের পতাকার রঙে।

পেশায় কেবল ব্যবসায়ী রঞ্জন পাল ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিল ফুটবল দলের অন্ধ সমর্থক। তাঁর কাছে ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য আবেগ। সেই আবেগই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে এক অনন্য উদ্যোগে, যা আজ জলপাইগুড়ির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

এই গল্পের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রঞ্জনবাবুর ছেলে রিজু। বিশেষভাবে সক্ষম রিজু মাঠে নেমে ফুটবল খেলতে না পারলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা কোনও অংশে কম নয়। বাবার পাশে বসে টেলিভিশনে ম্যাচ দেখা, প্রিয় দলের গোল হলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা—এসবই তার আনন্দের জগৎ।

বাবা-ছেলের এই যৌথ ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘ব্রাজিল হাউস’। ২০১১ সালে প্রথম নিজের বাড়িটিকে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙে রাঙিয়ে তোলেন রঞ্জন পাল। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের সময় নতুন করে সাজানো হয় বাড়িটি। হলুদ-সবুজ রঙের পাশাপাশি থাকে ব্রাজিলের পতাকা, ফুটবলের প্রতীক, রঙিন আলোর সাজ এবং বিশ্বকাপ ঘিরে নানা অলংকরণ।

বিশ্বকাপ শুরু হলেই এই বাড়ির সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও মানুষ এসে বাড়িটি দেখতে ভিড় করেন। কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, আবার কেউ শুধু দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন ফুটবলের প্রতি এক পরিবারের অসাধারণ ভালোবাসা।

রঞ্জন পালের স্ত্রীও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারের তিন সদস্য মিলে প্রতি বিশ্বকাপে বাড়িটিকে নতুন রূপ দেওয়ার কাজে অংশ নেন। তাদের এই ভালোবাসা ও উৎসাহ সংক্রমিত হয় আশপাশের মানুষদের মধ্যেও।

শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের কাছেই ‘ব্রাজিল হাউস’ এখন এক বিশেষ আকর্ষণ। বিশ্বকাপের সময় বাড়িটি যেন একটি ছোটখাটো উৎসবকেন্দ্রে পরিণত হয়। ফুটবলপ্রেমীদের আড্ডা, ম্যাচ নিয়ে আলোচনা এবং প্রিয় দলের জয়-পরাজয় নিয়ে আবেগ ভাগ করে নেওয়ার স্থান হয়ে ওঠে এটি।

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্পর্ক এবং আনন্দের সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে—জলপাইগুড়ির ‘ব্রাজিল হাউস’ যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। বাবা ও ছেলের এই অনন্য ভালোবাসার গল্প বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ছে সকলের।

বিশ্বকাপের এই ক’টা দিন তাই জলপাইগুড়ির এই বাড়িটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং ফুটবলপ্রেম, পারিবারিক বন্ধন এবং স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার এক সুন্দর প্রতীক।

আরও খবর