Fatema Bibi Citizenship
ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছিলেন প্রায় দুই দশক আগে। কিন্তু সেই আবেদনপত্রের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ৬০ বছরের ফতেমা বিবি। শনিবার মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসতেই কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। একই সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুললেন— যদি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয় ফতেমা বিবি ভারতের নাগরিক, তবে তাঁর ক্ষতিপূরণ দেবে কে? ভারত সরকার, না পাকিস্তান?
মামলাকারী ফতেমা বিবির দাবি, তিনি ১৯৬৫ সালে হুগলির হরিপালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা দু’জনেই ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাঁদের নামে হুগলিতে জমি, কর দেওয়ার রেকর্ড এবং অন্যান্য সরকারি নথিও রয়েছে।
মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানে যান তিনি। সেখানে প্রায় ১৩ বছর থাকার পর ১৯৮১ সালে স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে আসেন। এরপর হুগলিতেই বসবাস শুরু করেন।
১৯৮২ সালে মোজাফ্ফর মল্লিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই কন্যা নিলুফার ও ইয়াসমিন— দু’জনেই জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক।
২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করেন ফতেমা। পরিচয়পত্র, হলফনামা, বিবাহের নথি এবং পরিবারের অন্যান্য কাগজপত্রও জমা দেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই আবেদনের কোনও নিষ্পত্তি হয়নি।
শুনানিতে জানানো হয়, ২০০২ এবং ২০০৫ সালের দুটি ডকেট নম্বর থাকলেও সংশ্লিষ্ট ফাইল এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই তথ্য সামনে আসতেই বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বলেন,
“পাকিস্তানের নাগরিক বলে এক বৃদ্ধাকে জেলে পাঠানো হল। অথচ তাঁর দু’টি ফাইলই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তত ফাইলগুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা তো করতে হবে।”
আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশাসনের এমন গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিচারপতি আরও বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত ফতেমা বিবি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তাঁর ক্ষতিপূরণের প্রশ্নও সামনে আসবে। তখন সেই দায়িত্ব নেবে কে— ভারত সরকার, না পাকিস্তান?
আদালত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে হারিয়ে যাওয়া ফাইল নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে ফতেমা বিবির ভারতে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবুও নাগরিকত্বের আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বহু মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি দফতরে নথি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এখন নজর ১৭ অগস্টের শুনানির দিকে। কারণ সেই দিনই স্পষ্ট হতে পারে, হারিয়ে যাওয়া ফাইলের রহস্য কতটা উন্মোচিত হয় এবং ফতেমা বিবির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না।