West Bengal DA Arrears Announcement
শান্তনু কর্মকার | ক্লাউড টিভি : ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা অসম্ভব! তাই ভরসা সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা। ৪ঠা মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর ৯ তারিখই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অঙ্কের হিসেবে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রিত্বের ৪৫ দিন পূর্ণ হচ্ছে ২৩শে জুন তারিখে। ঘটনাচক্রে তার ঠিক একদিন আগেই রয়েছে রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট! রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, সরকারি কর্মচারীদের মন পেতে ২২ তারিখই বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বড় ঘোষণা (West Bengal DA Arrears Announcement ) করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সরকারি কর্মচারীদের ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনে অনুমোদন দিয়েছিল নবনির্বাচিত সরকার। তবে অনুমোদন পেলেও শীঘ্রই যে নতুন পে কমিশন অনুযায়ী বেতন মিলবে না, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে নতুন পে কমিশন কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।
বস্তুত, বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন, এই দুইয়ের দিকেই চাতক পাখির মতো (West Bengal DA Arrears Announcement ) তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। তৃণমূল আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি, আদালতে তৃণমূল সরকার বারংবার প্রমাণ করতে চেয়েছিল, মহার্ঘ্যভাতা সরকারের দয়ার দান। সরকারের সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও বকেয়া অর্থ মেটায়নি তৃণমূল সরকার, কর্মচারীদের ক্ষোভ জমছিল তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন ২০১৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে শুরু হলেও এ রাজ্যে তা শুরু করতে পারেনি সরকার। এ নিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার সুরও চড়িয়েছিল বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী দ্বিগুণেরও বেশি বেতনের আশায় পদ্মফুলে বোতাম টিপেছিল মধ্যবিত্ত বাঙালির একটা বড় অংশ। সেই আশা পূর্ণ হতে এখনও নয় নয় করে ছয় মাস। মাঝের সময়ে সরকারি কর্মচারীদের মন পেতে বকেয়া ডিএ-র কত শতাংশ ঘোষণা করে সরকার, তার দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।