TMC Signature Forgery Case
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দলের একাধিক বিধায়কের সই জাল (TMC Signature Forgery Case) করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং পরে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মোট ১৪ জন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। এর মধ্যে রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় ছাড়া বাকি ১৩ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই বাহারুল ইসলাম, অরূপ রায় এবং শুভাশিস দাস নামে তিন বিধায়ক তদন্তকারী সংস্থার কাছে জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একজনের হয়ে অন্য কেউ সই করতে পারেন না। এটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়।
তবে অসুস্থতার কারণে তিনি সোমবার হাজিরা দিতে পারেননি। কয়েকদিন আগে সোনারপুরে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং ইট ছোড়া হয়। ওই ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।
নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে তার জবাব দিতেই হবে। প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ আইন মেনেই তদন্ত করবে।”
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে সই জালিয়াতির এই অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।