Sayani Ghosh Rebel TMC
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার সংসদীয় দলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব কমছে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম ঘিরে।
সূত্রের দাবি, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন সায়নী ঘোষ। গত সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ২০ জন সাংসদের চিঠিতেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সায়নী।
রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সায়নী ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে ফের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁর নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়ানো স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
গত সোমবার দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের গোপন বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেদিন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়েই পৃথকভাবে বৈঠক করেন বিদ্রোহী সাংসদরা। প্রথম বৈঠকে সকলের উপস্থিতি না থাকলেও পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন সাংসদ সেই শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে শুধু সায়নী ঘোষই নন, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়-ও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাতে স্বামী নির্বেদ রায়ের সঙ্গে দিল্লিতে পৌঁছেছেন তিনি। বুধবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তাদের সঙ্গে থাকা সাংসদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সায়নী ঘোষ এবং মালা রায়ের মতো পরিচিত মুখ সত্যিই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, তাহলে তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।