• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Makhanlal Sarkar wife reaction

শিলিগুড়ির প্রচারবিমুখ বিজেপি কর্মীকে সম্মান জানাতেই চোখে জল পরিবারের

ব্রিগেডের শপথমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মান পেয়ে আবেগে ভেসে গেলেন প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারের পরিবার। স্ত্রী পুতুল দেবী বলেন, “এতটা সৎ এবং দল অন্তপ্রাণ মানুষ যে হতে পারে, ওর সঙ্গে সংসার না করলে বুঝতাম না।”

শিলিগুড়ির প্রচারবিমুখ বিজেপি কর্মীকে সম্মান জানাতেই চোখে জল পরিবারের

Makhanlal Sarkar wife reaction

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 10, 2026 9:09 am
  • Update:May 10, 2026 9:09 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi যখন ৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি কর্মী Makhanlal Sarkar-কে আলিঙ্গন করে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন, তখন টিভির সামনে বসে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর স্ত্রী পুতুল দেবী। দীর্ঘদিনের প্রচারবিমুখ, সংগঠননির্ভর জীবন কাটানো মাখনলাল সরকারের প্রতি এই সম্মান (Makhanlal Sarkar wife reaction) ঘিরে এখন আবেগে ভাসছে শিলিগুড়ির সূর্যনগর এলাকা।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকার ছিলেন বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিদের অন্যতম। মঞ্চে তাঁকে দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তিনি “নিবেদিত জাতীয়তাবাদী” এবং পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

কে এই মাখনলাল সরকার?

শিলিগুড়ির সূর্যনগরের বাসিন্দা মাখনলাল সরকার জনসঙ্ঘের সময় থেকেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অন্যতম। বিজেপির পূর্বসূরি জনসঙ্ঘের সংগঠন বিস্তারে উত্তরবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মাখনলাল সরকারের পরিচিতি কখনও প্রচারের আলোয় আসেনি। বরং সংগঠনের নেপথ্যকর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্মান বহু পুরনো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারাও শিলিগুড়িতে গেলে মাখনলাল সরকারের সঙ্গে দেখা করতেন।


কাশ্মীর আন্দোলন থেকে গ্রেফতার

মাখনলাল সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাশ্মীর আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে তাঁকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করে বলেও জানা গিয়েছে। আদালতে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা মানতে অস্বীকার করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “তিনি আমাদের দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”


আবেগঘন প্রতিক্রিয়া স্ত্রীর

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান টিভিতে দেখছিলেন মাখনলাল সরকারের স্ত্রী পুতুল দেবী। তিনি বলেন, বছরের পর বছর নিজের অর্থ খরচ করে দলীয় কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁর স্বামী। অনেক সময় সাধারণ কাঠের জ্বালানিতে রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন করেছেন তিনি নিজেও।

পুতুল দেবীর কথায়,

“মানুষ এতটা সৎ এবং দল অন্তপ্রাণ হতে পারে, ওর সঙ্গে সংসার না করলে বুঝতাম না।”

এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপকভাবে আলোচিত।


কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্ত?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাখনলাল সরকারকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে বিজেপি তাদের “আদর্শভিত্তিক পুরনো সংগঠন” ইমেজকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে জনসঙ্ঘ যুগের এক প্রবীণ কর্মীকে সামনে আনা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-ও মাখনলাল সরকারকে প্রণাম করেন।

আরও খবর