Khudiram Tudu Ranibandh
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: একসময় মাওবাদী আতঙ্ক, অনুন্নয়ন এবং রাজনৈতিক হিংসার জন্য পরিচিত ছিল বাঁকুড়ার রানিবাঁধ। সেই জঙ্গলমহলের মাটি থেকেই উঠে এসে এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন বিজেপি নেতা ক্ষুদিরাম টুডু। আদিবাসী অধ্যুষিত রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে জিতে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের পিছিয়ে পড়া এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুদিরামের এই উত্থান জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে।
রানিবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গলমহলের অশান্ত এলাকার মধ্যে অন্যতম ছিল। মাওবাদী কার্যকলাপ, জঙ্গলপথে সশস্ত্র দাপট এবং প্রশাসনিক অনুপ্রবেশের অভাব বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল। বিশেষ করে লালগড় আন্দোলনের সময় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশে মাওবাদী প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। রানিবাঁধও সেই প্রভাব থেকে বাদ যায়নি।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন ক্ষুদিরাম টুডু। পেশায় শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন তিনি। স্থানীয় স্তরে আদিবাসী সমাজের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। পরে বিজেপির হয়ে রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে জয় পান তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানিবাঁধ (এসটি) কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বার বিধায়ক হন।
শনিবার ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়ে বিশেষ নজর কেড়েছেন ক্ষুদিরাম। নিজের সংস্কৃতি এবং আদিবাসী পরিচয়কে সামনে রেখে শপথ নেওয়াকে প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রানিবাঁধে এখনও পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বহু সমস্যা রয়েছে। বহু গ্রামে এখনও পর্যাপ্ত রাস্তা, পানীয় জল বা স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছয়নি। সেই কারণে ক্ষুদিরাম টুডুর উপর প্রত্যাশাও অনেক বেশি। মানুষের আশা, জঙ্গলমহলের দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস বদলে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে তাঁর হাত ধরেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদিরাম টুডুকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া বিজেপির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে। কারণ জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক গত কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রানিবাঁধের মতো এলাকা থেকে একজন আদিবাসী নেতাকে সামনে আনা সেই রাজনৈতিক বার্তাকেই আরও জোরালো করছে বলে মনে করা হচ্ছে।