JyotipriyaMallick GautamDeb Resigns
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুক্রবার বড় চমক দেখা গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। একই দিনে শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন গৌতম দেব। এই দুই ঘটনাকে (JyotipriyaMallick GautamDeb Resigns) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি ‘বালু’ নামেও পরিচিত। সম্প্রতি তাঁকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চ রক্তে শর্করা এবং কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর পক্ষে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য এই পদত্যাগকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত কারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দলের সক্রিয় কর্মকাণ্ডে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী থেকে শুরু করে পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন গৌতম দেব। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
একই দিনে দুই প্রবীণ নেতার পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সময় এই ঘটনাগুলি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলীয় সূত্রে দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যই প্রধান কারণ। গৌতম দেবের পদত্যাগ নিয়েও শীঘ্রই স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসতে পারে।
রাজ্যের শাসকদলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।