• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ritabrata Banerjee Political Journey

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: ছাত্র রাজনীতি থেকে বিরোধী দলনেতা, এক বিতর্কিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যাত্রা

ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে সিপিএম, তৃণমূল এবং বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন বারবার নতুন মোড় নিয়েছে। বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনিই।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: ছাত্র রাজনীতি থেকে বিরোধী দলনেতা, এক বিতর্কিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যাত্রা

Ritabrata Banerjee Political Journey

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 3, 2026 4:22 pm
  • Update:June 3, 2026 4:22 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে থাকা নাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল মুখ, পরে রাজ্যসভার সাংসদ, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা এবং বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরের মুখ হয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দাবিদার— তাঁর রাজনৈতিক জীবন বারবার মোড় (Ritabrata Banerjee Political Journey) বদলেছে।

ঋতব্রতের রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয় ছাত্র রাজনীতি থেকে। তিনি দীর্ঘদিন Students’ Federation of India (SFI)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৮ সালে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন। পরে সিপিএমের তরুণ মুখ হিসেবে জাতীয় স্তরে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৪ সালে সিপিএমের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে সিপিএমে তাঁর যাত্রা মসৃণ ছিল না। ২০১৭ সালে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাত, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং একাধিক বিতর্কের জেরে তাঁকে প্রথমে সাসপেন্ড এবং পরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সময় ঋতব্রত প্রকাশ্যে সিপিএম নেতৃত্বের সমালোচনা করেছিলেন, যা বাংলার বাম রাজনীতিতে বড় আলোড়ন তুলেছিল।

সিপিএম ছাড়ার পর কিছুদিন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থানে থাকার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিক সংগঠন INTTUC-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান এবং ধীরে ধীরে দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠান। এক সময় তিনি নিজেই লিখেছিলেন, “তব চরণে নত মাথা”, যা তাঁর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।

রাজ্যসভায় তিনি বাংলা, শ্রমিক স্বার্থ, পাটশিল্প এবং বাঙালি জাতিসত্তা নিয়ে সরব ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি একজন সুবক্তা ও তীক্ষ্ণ সংসদীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয় এবং তিনি রাজ্য রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন।

কিন্তু ২০২৬ সালের জুন মাসে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। তথাকথিত ‘সই-কাণ্ড’ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তৃণমূল তাঁকে বহিষ্কার করে। এরপর তিনি বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দাবি করেন যে প্রায় ৫৮ জন বিধায়ক তাঁর পাশে রয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ঘোষণা করেন যে বিধানসভার স্পিকার তাঁর গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋতব্রতের জীবনপথ আসলে বাংলার রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। সিপিএম থেকে তৃণমূল, তারপর তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির— প্রতিটি পর্যায়েই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ।

আরও খবর