Work From Home GPS Tracking
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বাড়ি থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম (WFH) এখন বহু সংস্থার স্থায়ী কর্মপদ্ধতির অংশ। কিন্তু কর্মীদের উপর নজরদারি বাড়াতে (Work From Home GPS Tracking) এক সংস্থার নতুন নীতি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অভিযোগ, বাড়ি থেকে কাজ করার সময় কর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে রয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে সংস্থা GPS-ভিত্তিক লোকেশন ট্র্যাকিং চালু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে এক কর্মী জানান, তাঁর সংস্থা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অনুমতি দিলেও শর্ত হিসেবে মোবাইল ফোনে GPS চালু রাখতে বলেছে। শুধু তাই নয়, কাজের সময় কর্মীর অবস্থান নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কর্মীর দাবি, তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন কারণ একদিকে সংস্থা বলছে বাড়ি থেকে কাজ করা যাবে, অন্যদিকে আবার সারাক্ষণ অবস্থান নজরদারির আওতায় রাখতে চাইছে। এই নীতি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর হস্তক্ষেপ কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকের মতে, কর্মীরা কাজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন কিনা তা দেখার অধিকার সংস্থার থাকলেও সারাক্ষণ GPS ট্র্যাকিং কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার পরিপন্থী। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, দূরবর্তী কর্মব্যবস্থায় জালিয়াতি বা অনুপস্থিতি রোধে সংস্থাগুলি কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে বহু সংস্থা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল মনিটরিং টুল ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিন অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাকিং, লগ-ইন সময় পর্যবেক্ষণ, কিবোর্ড ব্যবহার বিশ্লেষণ এবং ভিডিও মিটিং উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ। তবে GPS-ভিত্তিক লোকেশন ট্র্যাকিং তুলনামূলকভাবে বেশি বিতর্কিত, কারণ এটি সরাসরি ব্যক্তিগত অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কর্মীদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পূর্বানুমতি এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় কর্মী ও সংস্থার মধ্যে বিশ্বাসের সংকট তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নজরদারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এই ঘটনা।