Uttam Kumar statue
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: চার দশক পেরিয়েও বাঙালির আবেগে, স্মৃতিতে এবং সিনেমার ইতিহাসে সমান উজ্জ্বল মহানায়ক উত্তম কুমার। শুক্রবার তাঁর ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই উন্মোচন করা হয় মহানায়কের আবক্ষ মূর্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রী, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য অনুরাগী। মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত সকলেই। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল আবেগঘন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমারের অবদান আজও অনস্বীকার্য। পাঁচ ও ছয়ের দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলা সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয়, সংলাপ বলার ধরণ, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
বিশেষ করে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচিত হয়। সপ্তপদী, হারানো সুর, অগ্নিপরীক্ষা, চাওয়া পাওয়া, নায়কসহ অসংখ্য ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের অভিনয় এবং জীবনদর্শন পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। তাঁর কাজ আগামী প্রজন্মকেও সমানভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
মহানায়কের স্মৃতিকে আরও স্থায়ী করে রাখতে এই আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দিনভর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, আবৃত্তি এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনেরও আয়োজন করা হয়।
২৪ জুলাই বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, আবেগেরও দিন। ১৯৮০ সালের এই দিনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন উত্তম কুমার। কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। টেলিভিশন, ওটিটি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সব জায়গাতেই তাঁর সিনেমা সমান জনপ্রিয়।
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামটি উচ্চারিত হলেই প্রথমেই মনে আসে উত্তম কুমারের নাম। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকদের সঙ্গে অদ্ভুত এক আবেগের সম্পর্ক তাঁকে আজও অমর করে রেখেছে। তাই প্রয়াণ দিবসে আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের এই উদ্যোগ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতির এক কিংবদন্তিকে নতুন করে স্মরণ করার প্রয়াস।