West Bengal Anti-Goonda Law
পশ্চিমবঙ্গে anti-social activity এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা নষ্ট করার ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলার ঘটনাতেও দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে ‘গুন্ডাদমন আইন’ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনি অবস্থানটি স্পষ্ট করা জরুরি। ২০২৬ সালের জুনে বিধানসভায় পাশ হওয়া West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026-এর পর Governor-এর অনুমোদন পাওয়া এবং ১৩ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ৬ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেই জানানো হয় যে বিলটি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতও সেই অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট PIL-গুলি premature হিসেবে খারিজ করে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা জুনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করে। এর মধ্যে একটি হল West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026 এবং অন্যটি West Bengal Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026। দ্বিতীয় বিলটির অন্যতম লক্ষ্য হল অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা তৈরি করা। এই ধরনের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য Claims Commission-এর ব্যবস্থার কথাও বিলে রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোয় anti-social activity-র বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিলটিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে preventive detention-এর বিধান রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়েছেন, প্রতিবাদ বা আন্দোলনের নামে হিংসা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস কিংবা পুলিশের উপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। নতুন আইনি কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার anti-social activity, organised crime, দাঙ্গা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনাকে কঠোরভাবে মোকাবিলার কথা বলেছে।
বিধানসভায় বিল পাশের সময়ও মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে নতুন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না এবং মূল লক্ষ্য হবে anti-social elements-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। বিলটি ২৯ জুন বিধানসভায় ১৭৬-৪১ ভোটে পাশ হয়েছিল বলে সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল।
এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে Governor-এর assent পাওয়ার পর রাজ্য সরকারের তরফে আইন কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হলেও, আগস্টে কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন এখনও বাকি থাকার বিষয়টি সামনে আসে। সংবিধানের Article 200-এর অধীনে Governor কোনও বিল President-এর বিবেচনার জন্য reserve করলে Article 201-এর প্রক্রিয়া প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। হাইকোর্টে রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই Presidential assent তখনও পাওয়া যায়নি।
ফলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা পুলিশের উপর হামলার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হলেও, ‘গুন্ডাদমন আইন’ ঠিক কোন পর্যায়ে এবং কোন বিধানের অধীনে কার্যকর—এই আইনি প্রশ্নটি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক notification-এর পর আইনটির প্রয়োগ এবং তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হতে পারে।