TMC Expels Ritabrata Banerjee
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সই জালিয়াতি বিতর্ক নতুন মোড় নিল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক Ritabrata Banerjee এবং এন্টালির বিধায়ক Sandipan Saha-কে। সোমবার বিকেলে দলের তরফে এই সিদ্ধান্ত (TMC Expels Ritabrata Banerjee) জানানো হয়।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে এবং সেই অভিযোগ প্রথম তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে এফআইআর দায়ের হয় এবং পরে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।
তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং সংগঠনের স্বার্থবিরোধী আচরণের অভিযোগেই দুই বিধায়ককে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও দল বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি।
বহিষ্কারের পরই পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। তাঁদের দাবি, কালীঘাটে একটি বৈঠকে উপস্থিতির খাতায় যে সই করানো হয়েছিল, সেই পাতাই পরে ছিঁড়ে অন্য নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের কথায়, “যে কাজের প্রতিবাদ করেছি, সেই কারণেই আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এদিকে সই জালিয়াতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, কয়েকজন বিধায়ক নাকি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ এই বিতর্কের জেরে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং সম্ভাব্য ভাঙনের জল্পনা নতুন করে সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, বহিষ্কৃত (TMC Expels Ritabrata Banerjee) দুই বিধায়ক ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করবেন কি না।
অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল নেতা Kunal Ghosh নাম না করে দুই বিধায়কের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের খারাপ সময়ে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
বর্তমানে সই জালিয়াতি অভিযোগ, সিআইডি তদন্ত, দলীয় বহিষ্কার এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ— সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতির।