Sudip Chatterjee
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। সোমবার গভীর রাতে শহরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে পোস্টার পড়ায় শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। পোস্টারে তাঁকে ‘বেইমান’ ও ‘চোর’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পোস্টারের নিচে ‘প্রচারে: তাপস রায়, কুণাল ঘোষ’ লেখা থাকায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষ—দু’জনেই এই পোস্টারের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার রাতে নবান্নে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তে দেখা যায়। এমনকি সাংসদের বাড়ির আশপাশেও ওই পোস্টার নজরে আসে।
পোস্টারে লেখা ছিল, “বেইমান আর চোরটা, নয়নাদিদির বরটা”। এর নিচেই ‘প্রচারে: তাপস রায়, কুণাল ঘোষ’ লেখা থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় থেকেই সুদীপের সঙ্গে তাপস রায়ের মতবিরোধ ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।
গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্যই তাপস রায় দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সেই ঘটনায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
পরবর্তী সময়ে কলকাতা উত্তর জেলা তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরেও সুদীপকে ঘিরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক হয়েছিল।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। এরপর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর কলকাতায় তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে মন্ত্রী তাপস রায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই পোস্টারের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। অন্যদিকে, গোটা ঘটনা নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পোস্টারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে উত্তর কলকাতার এই পোস্টার-কাণ্ড ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।