Ritabrata Banerjee Becomes LoP
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ও উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস তাঁর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁকেই বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিধানসভায় স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ঋতব্রত জানান, তাঁর শিবিরের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সেই দাবি গ্রহণ করার পরই তাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন। দল তাঁর বিরুদ্ধে ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগ তুলেছিল। তাঁর সঙ্গে আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহাকেও বহিষ্কার করা হয়।
তবে বহিষ্কারের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছিল। বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তাদের পাশে রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক। ঋতব্রতর দাবি, তাঁর শিবিরের সমর্থনে ৫৮ থেকে ৫৯ জন বিধায়ক রয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। সেই অবস্থানের বিরুদ্ধেই ঋতব্রত শিবির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বিদ্রোহীদের অভিযোগ ছিল, সমর্থনপত্র নিয়ে অনিয়ম হয়েছে এবং বেশ কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে এই বিদ্রোহের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী হিসেবেই মানেন। তবে তাঁর আপত্তি দলের বর্তমান পরিচালনা ও নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে।
এখন নজর রয়েছে এই রাজনৈতিক সংঘাতের পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে। যদি বিদ্রোহী শিবিরের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।