NarendraModi DurgaPuja2026
কলকাতা: ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ বা অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। এবার সেই দুর্গোৎসবকে আরও বৃহত্তর পরিসরে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আসন্ন দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (NarendraModi DurgaPuja2026)। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যেরও শহরে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের দাবি, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে আরও প্রচার করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে আসেন। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এই ঐতিহ্যকে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী বলে জানা গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা সফর হলে তা নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হবে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করেছেন। দুর্গাপুজোকে তিনি বহুবার ‘ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উজ্জ্বল প্রতীক’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ফলে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অমিত শাহের সঙ্গে কলকাতার দুর্গাপুজোর (NarendraModi DurgaPuja2026) সম্পর্ক নতুন নয়। অতীতেও তিনি একাধিকবার কলকাতার বিভিন্ন নামী পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন করেছেন এবং পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। রাজনাথ সিং-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও এবার দুর্গোৎসব উপলক্ষে কলকাতায় আসতে পারেন বলে সূত্রের ইঙ্গিত। যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্ভাব্য সফরের পিছনে শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক কারণ নয়, রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রাজ্য। রাজ্যের মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি এবং উৎসবের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুর্গাপুজোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুর্গাপুজো এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার অর্থনীতি, পর্যটন এবং সামাজিক জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি। পুজোকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়। হোটেল, পরিবহণ, রেস্তোরাঁ, খুচরো ব্যবসা থেকে শুরু করে শিল্পী ও কারিগরদের জীবিকাও এই উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও দুর্গাপুজোর আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে, কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই বিষয়টির দিকে নজর রাখছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গাপুজোকে বিশ্বের দরবারে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্গোৎসবের সময় কলকাতায় আসেন কি না। তবে সম্ভাবনার এই খবরই ইতিমধ্যেই উৎসবপ্রেমী এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।