ED raids Nadimul Haque
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মহম্মদ নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় সোমবার সকাল থেকে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED raids Nadimul Haque)। কলকাতা, দিল্লি এবং রাঁচি মিলিয়ে মোট সাতটি জায়গায় এই তল্লাশি চলছে। অভিযানটি তাঁর পরিচালিত উর্দু দৈনিক ‘আখবার-এ-মাশরিক’ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের অংশ বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
কলকাতার পার্ক সার্কাসে ‘আখবার-এ-মাশরিক’ সংবাদপত্রের দফতরেও সোমবার সকালে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। নাদিমুল হক এই সংস্থার ডিরেক্টর। সেখানে নথিপত্র, আর্থিক রেকর্ড এবং তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডির দাবি, মামলায় বেআইনি লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত নগদ লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের মতো অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংবাদপত্রের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এমন বিষয় প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগও মামলার অংশ বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এই মামলার সূত্রেই ইডি একটি Enforcement Case Information Report বা ECIR নথিভুক্ত করেছে। এর ভিত্তি হিসেবে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা একটি FIR-এর কথা জানিয়েছে সংস্থা।
কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ঠিকানায় ইডির তল্লাশি চলছে। ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ঠিকানাতেও ইডি আধিকারিকরা পৌঁছেছেন। এই ঠিকানাটি নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ সাংসদ বাংলোর সঙ্গে যুক্ত এবং সেখানে তৃণমূলের দফতর হিসেবে কার্যক্রম চলে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দিল্লি, কলকাতা এবং রাঁচিতে মোট সাতটি premises-এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড এবং ডিজিটাল বা অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন।
মূলত আর্থিক লেনদেনের সূত্র এবং অর্থের উৎসের সন্ধানেই এই তল্লাশি বলে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য। তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক ‘ট্রেল’ বা অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত তল্লাশি থেকে কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে এই অভিযান নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা নাদিমুল হকের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তদন্ত এখনও চলছে এবং ইডির অভিযোগগুলি তদন্তাধীন বিষয়।