• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Deshapriya Park Puja

দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপ ‘ভাঙচুর’ ঘিরে বিতর্ক! পুজোর ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত? মুখ খুললেন স্বপন দাশগুপ্ত

দেশপ্রিয় পার্কের বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ৮৯তম বছরে পা দিতে চলা পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তের দাবি, মণ্ডপ ধ্বংস করা হয়নি।

দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপ ‘ভাঙচুর’ ঘিরে বিতর্ক! পুজোর ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত? মুখ খুললেন স্বপন দাশগুপ্ত

Deshapriya Park Puja

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 14, 2026 2:02 pm
  • Update:August 14, 2026 2:02 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত দুর্গাপুজো দেশপ্রিয় পার্কের বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। এবার ৮৯ বছরে পা দিতে চলেছে এই পুজো। কিন্তু পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই সামনে এসেছে নতুন বিতর্ক।

অভিযোগ উঠেছে, দেশপ্রিয় পার্কে তৈরি হতে থাকা পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

এই পরিস্থিতিতে দেশপ্রিয় পার্কের পুজো আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত দাবি করেছেন, মণ্ডপ ধ্বংস করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, মূল সমস্যা দুই পুজো কমিটির মধ্যেকার বিবাদ।

কলকাতার পার্কগুলি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়াই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।

৪০-৫০ জন যুবকের বিরুদ্ধে মণ্ডপ ভাঙার অভিযোগ

বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির দাবি, পুজোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছিল।
গত ২৮ জুন দেশপ্রিয় পার্কে খুঁটিপুজো হয়। এবার সেখানে প্রায় ৭০ ফুটের একটি মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু অভিযোগ, গত ৯ অগস্ট রাতে পরিস্থিতি বদলে যায়। রাত আটটা নাগাদ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক মণ্ডপে ঢোকে বলে কমিটির দাবি। তাঁরা কাউকে কিছু না জানিয়েই মণ্ডপের কাঠামোয় ভাঙচুর শুরু করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বেশ কিছুক্ষণ ধরে সেখানে তাণ্ডব চলে। এরপর ওই যুবকেরা এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ১১ অগস্ট রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তবে ঘটনার অন্য একটি ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত সরাসরি বলেছেন, প্যান্ডেল ধ্বংস করা হয়নি। তাঁর দাবি, দেশপ্রিয় পার্কের পুজোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই এখন বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশপ্রিয় পার্ক নিয়ে সমস্যা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। পার্কের ব্যবহার এবং সেখানে নির্মাণকাজ নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের জুনে স্বপন দাশগুপ্তও জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের জন্য পার্কগুলি উন্মুক্ত থাকা উচিত। তিনি দেশপ্রিয় পার্ক এবং বিবেকানন্দ পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।

দুই কমিটির বিবাদেই কি পুজো আটকে?

দেশপ্রিয় পার্কের পুজোকে ঘিরে কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন অন্যতম বড় বিষয়।
এক পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন পুজোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। অন্য পক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ মানছে না।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর স্থানীয় রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
এরপর পুরনো কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানায় বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর প্রস্তুতি চললেও পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মণ্ডপ তৈরির কাজও এগিয়ে চলছিল। এখন সেই কাজ নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় নোটিস দিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়েও আদালতে একটি মামলা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, এই সমস্ত বিবাদ থেকে তিনি দূরে থাকতে চান। পুজো কমিটির কোনও পক্ষের সঙ্গেই রাজনৈতিক ভাবে যুক্ত হতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিধায়কের কথায়, দুর্গাপুজোর কমিটিগুলিকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। তিনি নিজে কোনও পুজো কমিটির সভাপতি বা সদস্য হতে চান না। তবে এলাকার সব দুর্গাপুজোয় তিনি যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে আরও একটি রাজনৈতিক বার্তা সামনে এসেছে। স্বপন দাশগুপ্ত কলকাতার দুর্গাপুজোর অরাজনীতিকরণের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা, পুজো কমিটির মধ্যে কোনও সমস্যা থাকলে তা নিজেদের মধ্যেই মেটানো উচিত। রাজনীতিকে সেই বিবাদের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। দেশপ্রিয় পার্ক নিয়ে আগেও স্থানীয় প্রশাসন এবং পার্কের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। নির্বাচনের সময়ও এই পার্ককে রাসবিহারী কেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

পার্ক খুলবে কবে? পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

বর্তমানে দেশপ্রিয় পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি পার্ক ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য পার্কগুলি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, শহরের পার্ক কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না।

এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর আগের অবস্থানেরও মিল রয়েছে। জুন মাসে তিনি বলেছিলেন, পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। কোনও ক্লাব বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের প্রবেশ আটকে রাখা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

অন্যদিকে, পুজো কমিটির অভিযোগের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই মণ্ডপে ভাঙচুর হয়েছিল কি না, হলে কারা করেছিল এবং কেন করেছিল, তা তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে।

পুজোর ভবিষ্যৎও সেই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। কারণ মণ্ডপ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছিল। এখন কাজ বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মণ্ডপ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে পুজো একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ, পার্ক ব্যবহারের প্রশ্ন এবং আইনি জট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।

দেশপ্রিয় পার্কের পুজো কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নাম।
তাই এই পুজো ঘিরে কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, পুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিবাদ যেন আরও না বাড়ে।
কারণ দুর্গাপুজো কলকাতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বপন দাশগুপ্তও সেই কারণেই পুজোকে রাজনীতির বাইরে রাখার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, কমিটির বিবাদ কমিটির মধ্যেই মেটানো উচিত।

এখন নজর পুলিশের তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে। পার্ক কবে খুলবে, মণ্ডপ তৈরির কাজ ফের শুরু হবে কি না এবং ৮৯তম বছরে দেশপ্রিয় পার্কের দুর্গাপুজো শেষ পর্যন্ত আগের মতোই হবে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও খবর