• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Bengal Woman Trafficked

চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার! সন্দেশখালির তরুণীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, তদন্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা

তামিলনাড়ুতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সন্দেশখালির এক তরুণীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ। গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতাল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার! সন্দেশখালির তরুণীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, তদন্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা

Bengal Woman Trafficked

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 7, 2026 10:27 pm
  • Update:August 7, 2026 10:27 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

চাকরির লোভ দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এক তরুণীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা ওই তরুণীকে তামিলনাড়ুতে মোটা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


ফেসবুকে পরিচয়, চাকরির প্রতিশ্রুতি, তারপর নিখোঁজ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। পরে তিনি কলকাতার গ্যালিফ স্ট্রিট এলাকায় থাকতেন এবং চাকরির খোঁজ করছিলেন।

এই সময় ফেসবুকের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি তামিলনাড়ুতে ভালো বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। সেই প্রলোভনে গত ১ জুলাই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন তিনি চাকরিতেই যোগ দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে সন্দেশখালি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।


বাংলাদেশ থেকে ফোনে সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য

ঘটনার মোড় ঘোরে ১৮ জুলাই, যখন তরুণীর ভাই একটি ফোন পান। অভিযোগ, বাংলাদেশের এক মহিলা, যিনি নিজেকে লামিয়া আক্তার বলে পরিচয় দেন, ফোন করে জানান যে ওই তরুণীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, তরুণীকে বন্দি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরে কোনওভাবে পালিয়ে তিনি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়।

তবে ফোনালাপের পর ওই নম্বরটি আর সচল পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।


তদন্তে কলকাতা পুলিশ, বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ

তরুণীর ভাই পরে কলকাতার শ্যামপুকুর থানায় অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার নিয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, মোবাইল নম্বর, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তামিলনাড়ু পুলিশের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে একটি আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

আরও খবর