Petrol Price India
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের পেট্রল-ডিজেলের দামও কমে যাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেই সমীকরণ কাজ করে না। বরং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন অংশে জ্বালানির দাম বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একাধিক অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির বা Oil Marketing Companies (OMCs)-এর আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানির বাজারে বড় ওঠানামা দেখা গিয়েছিল।
সেই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তেলের পুরো মূল্যবৃদ্ধির চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হয়নি। ফলে তেল সংস্থাগুলির ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও সেই ক্ষতির একটা অংশ ধীরে ধীরে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয় বড় কারণ হলো ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার। ভারত তার প্রয়োজনের অধিকাংশ অশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। আর এই আমদানির জন্য অর্থ প্রদান করতে হয় মার্কিন ডলারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও যদি ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকা দুর্বল থাকে, তাহলে আমদানি খরচ খুব বেশি কমে না।
এছাড়াও কর ব্যবস্থাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের দামের একটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের করের সঙ্গে যুক্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও তার সম্পূর্ণ সুবিধা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায় না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মুদ্রার বিনিময় হার এবং তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা— এই তিনটি বিষয়ের ওপর জ্বালানির ভবিষ্যৎ মূল্য অনেকটাই নির্ভর করবে। ফলে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলেই দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রলের দাম কমবে— এমনটা সব সময় ধরে নেওয়া যায় না।