Omar Abdullah Vande Mataram controversy
জম্মু-কাশ্মীরে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এল INDIA জোটের দুই শরিকের মতপার্থক্য (Omar Abdullah Vande Mataram controversy)। কংগ্রেসের আপত্তির জবাবে সরাসরি পাল্টা আক্রমণ করলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর প্রশ্ন, এই ইস্যুতে কি কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চায় কংগ্রেস?
শ্রীনগরে জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম International Film Festival-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। গানটির সম্পূর্ণ পরিবেশনের সময় দু’জনেই দাঁড়িয়েছিলেন।
ঘটনার পরেই ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, দলের দীর্ঘদিনের অবস্থান অনুযায়ী প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া উচিত।
কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল এই প্রসঙ্গে দলের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবককেই অনুসরণ করে।
কংগ্রেসের যুক্তি, গানটির পরবর্তী অংশের বিষয়বস্তু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যে সমন্বয়বাদী ও বহুত্ববাদী ভারতের ধারণা সামনে রাখা হয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কংগ্রেসের আপত্তির জবাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ওমর আবদুল্লা। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি এখন শুধুমাত্র কোনও রাজনৈতিক দলের পছন্দ বা অপছন্দের প্রশ্ন নয়। সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যে আইনি বিধান রয়েছে, তা মেনে চলতে হবে।
এই প্রসঙ্গেই কংগ্রেসকে নিশানা করে ওমর প্রশ্ন করেন, “কংগ্রেস কি চায় কাশ্মীরিদের এই ইস্যুতে জেলে পাঠানো হোক?”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আইন গোটা দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে জম্মু-কাশ্মীরেও সরকারি অনুষ্ঠানে সেই বিধান মানতে হবে।
ওমর একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ন্যাশনাল কনফারেন্স রাজনৈতিক দল হিসেবে কখনও ‘বন্দে মাতরম’কে নিজেদের দলীয় অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করেনি। ভবিষ্যতেও দলটি তা করবে না বলে জানান তিনি।
তবে আইন ও সরকারি বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে দলের কোনও আপত্তি নেই বলেই তাঁর বক্তব্য। তাঁর মতে, কোনও আইন পছন্দ না হলে সংসদে তার বিরোধিতা করা উচিত।
‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসায় INDIA জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কংগ্রেস চাইছে দলের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম দুই স্তবক অনুসরণ করা হোক। অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের অবস্থান, জোটের শরিক হিসেবে কংগ্রেস তাদের উপর দলীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।
বিজেপিও এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। ফলে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্ক এখন জাতীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নের পাশাপাশি বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়ও হয়ে উঠেছে।