Bengal Ranji match Eden Gardens
মহালয়ার সন্ধ্যায় ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে এবার অন্য আবহ। ব্যাট-বলের লড়াই নয়, সেদিন ইডেনে হবে মহামায়ার আবাহন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে দুর্গাপুজোর সূচনার বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করছে রাজ্য সরকার। আর সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই বদলাতে পারে বাংলার রনজি ট্রফির সূচি (Bengal Ranji match Eden Gardens)।
১০ অক্টোবর মহালয়া। ওই দিন রেড রোডে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পর ইডেন গার্ডেন্সে হবে মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেবীর চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কিন্তু এর পরের দিনই, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর থেকে রনজি ট্রফিতে অভিযান শুরু করছে বাংলা। প্রথম ম্যাচ দিল্লির বিরুদ্ধে। ফলে নিরাপত্তা এবং অনুষ্ঠানজনিত কারণে ইডেনে সেই ম্যাচ আয়োজন কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে কল্যাণীর নাম।
মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যকে উৎসবের মেজাজে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। রেড রোডে হবে বিশেষ শোভাযাত্রা। বাংলার ২৩টি জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে থাকবে ২৩ ধরনের নৃত্যশৈলী।
এর পরেই ইডেন গার্ডেন্সে হবে মূল অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে দেবীর চক্ষুদানের আয়োজন করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হতে পারে ইডেনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইডেন গার্ডেন্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্টেডিয়াম এসপিজির নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
আর সেখানেই তৈরি হয়েছে ক্রিকেটের সমস্যা। ১১ অক্টোবর থেকেই রনজি ট্রফিতে মাঠে নামবে বাংলা। প্রথম ম্যাচ দিল্লির বিরুদ্ধে। কিন্তু তার আগেই ইডেনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘ সময়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় সেখানে ম্যাচ আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
ইডেনে ম্যাচ না হলে বিকল্প হিসেবে কল্যাণীর মাঠই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলার ক্রিকেটের কাছে কল্যাণী অবশ্য নতুন কোনও নাম নয়।
গত মরসুমে সেখানে বাংলার একাধিক রনজি ম্যাচ হয়েছে। এমনকি রনজি সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও কল্যাণীতে আয়োজন করা হয়েছিল। ফলে প্রয়োজন হলে কলকাতার পরিবর্তে কল্যাণীতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনও সমস্যা দেখছে না সিএবি।
ইডেনের অনুষ্ঠান এবং রনজি ম্যাচের সম্ভাব্য সূচি বদল নিয়ে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যও বেশ স্পষ্ট। তাঁর মতে, দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন—এটি গর্বের বিষয়।
সৌরভের বক্তব্য, বাংলার হাতে একাধিক মাঠ রয়েছে। তাই প্রয়োজনে একটি রনজি ম্যাচ অন্য মাঠে সরিয়ে নেওয়া যেতেই পারে। তাঁর মতে, কল্যাণীতে ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে, ফলে এতে বিশেষ সমস্যা হবে না।
বড় সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য ক্রিকেট মাঠের ব্যবহার বা ম্যাচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন যে একেবারে নজিরবিহীন নয়, তা বোঝাতে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন সৌরভ।
বিসিসিআই সভাপতি থাকার সময় আহমেদাবাদের একটি স্টেডিয়ামে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—বড় জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে ক্রিকেটের সূচি সামঞ্জস্য করা সম্ভব।
মহালয়ার অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলতে বড়সড় আয়োজন করছে রাজ্য সরকার। ইডেন গার্ডেন্সে এক হাজার মহিলার উলুধ্বনির পাশাপাশি একসঙ্গে ১০ হাজার ঢাক বাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, এই বিশাল আয়োজন বিশ্বরেকর্ডের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় পুজোর গান গাইবেন শ্রেয়া ঘোষালও।
মহালয়ার এই আয়োজন শুধু সাংস্কৃতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে বাংলার ক্রিকেট সূচিও। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইডেনে মেগা অনুষ্ঠান, অন্যদিকে তার পরদিন থেকেই বাংলার রনজি অভিযান।
তাই ইডেনে ক্রিকেটের বদলে যদি কয়েক দিনের জন্য পুজোর ঢাক বাজে, বাংলার ক্রিকেটকে তখন কল্যাণীর মাঠেই নতুন করে ‘হোম’ বানাতে হতে পারে।