NEET Question Leak 2026
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG 2026-কে ঘিরে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। তদন্তে উঠে এসেছে, National Testing Agency (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক শিক্ষকই (NEET Question Leak 2026) ছিলেন গোটা চক্রের অন্যতম “মাস্টারমাইন্ড”। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগেই নির্দিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল প্রশ্নপত্র।
CBI সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত মনীষা গুরুনাথ মন্ধারে পুনের এক নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপিকা। তিনি NEET-UG 2026-এর Botany এবং Zoology প্রশ্ন তৈরির বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পুনেতে নিজের বাড়িতেই “স্পেশাল কোচিং ক্লাস” চালাতেন অভিযুক্তরা। সেখানে সীমিত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে ডেকে সম্ভাব্য প্রশ্নের নামে আসল প্রশ্ন ও উত্তর শেখানো হত। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
CBI-র দাবি, Biology-র প্রায় ৯০টি প্রশ্ন এবং Chemistry-র অন্তত ৪৫টি প্রশ্ন আগেই বাইরে চলে গিয়েছিল। “গেস পেপার” নামে সেই প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হচ্ছিল বিভিন্ন রাজ্যে। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধুমাত্র স্থানীয় চক্র নয়, বরং বহু রাজ্যে বিস্তৃত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক।
এই মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত পি ভি কুলকার্নিকে “কিংপিন” বলে উল্লেখ করেছে CBI। তিনি দীর্ঘদিন ধরে NTA-র পরীক্ষাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, প্রশ্নপত্রে সরাসরি অ্যাক্সেস থাকার সুযোগ নিয়েই ফাঁসচক্রকে সাহায্য করতেন তিনি।
CBI আদালতে জানিয়েছে, এই ঘটনায় শুধুমাত্র বাইরের দালালচক্র নয়, NTA-র অভ্যন্তরেও একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন। তাই গোটা প্রশ্নপ্রণয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক পুনরায় পরীক্ষার দাবি তোলেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু করে।
চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত NEET-UG 2026 পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় NTA। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নতুন পরীক্ষার দিন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
CBI সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষক, কোচিং সেন্টার মালিক এবং মধ্যস্থতাকারী যুক্ত থাকতে পারেন।
এছাড়াও প্রশ্নপত্র কোন পর্যায় থেকে বাইরে এল, কীভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছল এবং কারা অর্থ লেনদেনের মূল নিয়ন্ত্রক— সেই সমস্ত দিকেই এখন নজর দিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় এমন দুর্নীতির অভিযোগ শুধু পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং লক্ষ লক্ষ পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।