NALSAR Protest
NALSAR বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিবাদ ঘিরে বড়সড় মোড়। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানালেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে। ছাত্রদের বিরুদ্ধে BCI-এর কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বিতর্কের সূত্রপাত NALSAR University of Law-এর ২০২৬ ব্যাচের ছাত্রদের একটি প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে CJI সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর বিরোধিতা করে ছাত্রদের একাংশ চিঠি দিয়েছিলেন।
তার পরেই BCI বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে।
শুক্রবার এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে জরুরি ভাবে তোলা হয়। CJI সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ BCI-এর পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি আসলে তাঁর এবং ছাত্রদের মধ্যে একটি সংলাপ।
সেখানে BCI কেন হস্তক্ষেপ করছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ছাত্রদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত ভাবে মত প্রকাশ করলে তাঁদের থামানো যায় না।
CJI নিজের ছাত্রজীবনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ছাত্র থাকাকালীন তিনিও বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কোনও তরুণ ভুল বক্তব্য রাখলেও তার জন্য সঙ্গে সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শীর্ষ আদালতের বক্তব্যের মূল সুর ছিল স্পষ্ট। আইন পড়ুয়াদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কোনও সাংবিধানিক পদাধিকারীর সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেই তাঁদের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
এর আগে BCI সমস্ত রাজ্য বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছিল, NALSAR-এর ২০২৬ ব্যাচের কোনও স্নাতককে আইনজীবী হিসেবে enrol করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ছাত্রদের প্রতিবাদ নিয়ে তদন্তের প্রেক্ষিতে। BCI NALSAR-এর উপাচার্যের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল। কে প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন, কারা তা সংগঠিত করেছিলেন এবং কারা পড়ুয়াদের আন্দোলনে যুক্ত করেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সিদ্ধান্তটি সামনে আসতেই প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আইনজীবী মহলের একাংশও BCI-এর পদক্ষেপের সমালোচনা করে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং এই নির্দেশকে ‘arbitrary, illegal and disproportionate’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
তাঁর বক্তব্য ছিল, মত প্রকাশের জন্য আইন পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ পেশাগত অধিকার আটকে দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তা এবং বিতর্কের জায়গা বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
এর পরেই BCI নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। BCI-এর তরফে আদালতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট circular প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট BCI-এর কাছে circular নিয়ে জবাব চেয়েছে। পাশাপাশি NALSAR-এর ছাত্র এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে BCI বা কোনও State Bar Council-এর মাধ্যমে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ আপাতত এই ঘটনায় পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পেশাগত বা disciplinary action নেওয়ার রাস্তা বন্ধ। মামলাটি নিয়ে BCI-কে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর পর বিষয়টি ফের শুনবে শীর্ষ আদালত।
এদিকে BCI পরবর্তী পর্যায়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানিয়েছে। ২০২৬ ব্যাচের অধিকাংশ ছাত্র এই বিতর্কিত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে কাউন্সিল জানিয়েছে। তাই পুরো ব্যাচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।
BCI জানিয়েছে, ২০২৬ ব্যাচের বিরুদ্ধে চলা proceedings বন্ধ করা হয়েছে। তবে ছাত্রদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় আসলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, সাংবিধানিক পদাধিকারীর সঙ্গে ছাত্রদের মতবিরোধ কতটা স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করা যাবে। দ্বিতীয়ত, আইন পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনে কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের পর্যবেক্ষণ দ্বিতীয় প্রশ্নটিকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
CJI-এর বক্তব্যে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, কোনও ভুল বক্তব্য থাকলেও তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরাসরি পেশাগত ভবিষ্যৎ আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
NALSAR বিতর্ক তাই শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেই। এটি এখন ছাত্রদের স্বাধীন মত প্রকাশ, আইন পেশায় প্রবেশের অধিকার এবং Bar Council-এর ক্ষমতার সীমা নিয়ে বড় আইনি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
পরবর্তী শুনানিতে BCI-এর বক্তব্য কী হয়, সেদিকেই এখন নজর। তবে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান পরিষ্কার—শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার জন্য পড়ুয়াদের ভয় দেখানো বা তাঁদের পেশাগত ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না।