Mid-Day Meal
বিহারের একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নুনের বদলে খাবারে মিশে গেল ডিটারজেন্ট পাউডার। সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল অন্তত ৩৬ জন ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে নালন্দা জেলার নূরসরাই থানা এলাকার পরাসি মিডল স্কুলে। অসুস্থ পড়ুয়াদের বিহারশরিফ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সকলেই বিপদমুক্ত।
মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলে নিয়ম মেনেই মিড-ডে মিল পরিবেশন করা হয়। মেনু অনুযায়ী খাবারে ছিল সয়াবিন ও ভাত। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্কুলে সেই খাবার সরবরাহ করেছিল। খাবার খেতে বসার পর কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে, খাবারে নুন কম রয়েছে। এরপর রান্নার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নুন দেওয়ার পরিবর্তে ভুল করে ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, স্কুলের রান্নাঘরে নুন এবং ডিটারজেন্টের পাত্র পাশাপাশি রাখা হয়েছিল। ফলে রান্নার সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই ভুলেই খাবারে ডিটারজেন্ট মিশে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন পড়ুয়া অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। তাদের মাথা ঘুরছিল। অনেকের বমিও শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে পড়ুয়াদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অসুস্থ ৩৬ জন ছাত্রীকে বিহারশরিফ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। নালন্দার সিভিল সার্জন জয় প্রকাশ সিংও হাসপাতালে গিয়ে পড়ুয়াদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, শিশুরা বিপদমুক্ত রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান বিহারের গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শ্রবণ কুমার। তিনি অসুস্থ পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার খবর নেন। ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পর স্কুলের রান্নাঘরে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নুন এবং পরিষ্কার করার রাসায়নিক এক জায়গায় রাখা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য রান্না করা খাবারে সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
তাই রান্নাঘরে খাদ্যসামগ্রী এবং রাসায়নিক পদার্থ আলাদা জায়গায় রাখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি খাবার পরিবেশনের আগে তার গুণমান পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের তদন্তে এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেতে পারে।
ঘটনায় পড়ুয়াদের পরিবারগুলির মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে অসুস্থ ছাত্রীরা বিপদের বাইরে রয়েছে। তদন্তের পরই জানা যাবে এই ঘটনায় কার গাফিলতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আটকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।