পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেরলের ওই কিশোরী পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে কর্ণাটকের চিকমাগালুরু জেলার পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ট্রেকিং চলাকালীন হঠাৎই তিনি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা প্রথমে নিজেরাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, পরে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।
নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরই শুরু হয় বড়সড় অনুসন্ধান অভিযান। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। পুলিশ, বনদপ্তর এবং উদ্ধারকারী দল একাধিক টিম গঠন করে জঙ্গল, খাড়া পাহাড়ি পথ এবং জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। ড্রোন ও রোপ টিম ব্যবহার করেও খোঁজ চালানো হয়, কিন্তু প্রথম কয়েকদিন কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।
Advertisement
অবশেষে চার দিনের মাথায় মানিক্যধারা জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদ থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় ১৫০ মিটার নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান—পাহাড়ি পথ দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে পরিবারের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়—বরং অপহরণ বা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মতে, কিশোরী হঠাৎ করে এভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা সন্দেহজনক এবং তাকে কেউ জোর করে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই অপহরণের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা অন্য কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই ট্রেকিং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হলেও এই ধরনের পাহাড়ি এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গাইডলাইন মেনে চলা এবং পর্যবেক্ষণ কতটা হচ্ছে—তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার বা বড় দলের সঙ্গে গেলে সদস্যদের নজরদারি আরও কঠোর হওয়া উচিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, কেরলের এই কিশোরীর মৃত্যু এখনো রহস্যে ঘেরা। দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অপরাধ—তা স্পষ্ট করবে তদন্ত এবং ফরেনসিক রিপোর্ট। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—অপরিকল্পিত বা অসতর্ক ট্রেকিং কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, আর একইসঙ্গে অপরাধের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন গোটা দেশের নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে।