IndiGo Unruly Passenger
বিমান বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিমানবন্দরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল এক মহিলা যাত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। IndiGo জানিয়েছে, ওই যাত্রীকে ‘আনরুলি’ বা বেপরোয়া যাত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে তাঁকে নিরাপত্তা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা নাগাদ। ভুবনেশ্বর থেকে কলকাতাগামী IndiGo-র 6E 7352 বিমানটি বাতিল হয়ে যায়। বিমানের বাধ্যতামূলক উড্ডয়ন-পূর্ব পরীক্ষায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপরই যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
IndiGo-র 6E 7352 বিমানটির ভুবনেশ্বর থেকে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। ১৩ আগস্ট বিমানটি নির্ধারিত সময়েই উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু উড্ডয়নের আগে বিমানের পরীক্ষা করা হয়। সেই সময় একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা ধরা পড়ে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিমানটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্থার দাবি, যাত্রীদের অসুবিধার জন্য তারা দুঃখপ্রকাশ করেছে। যাত্রীদের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।
প্রয়োজনে থাকার জন্য হোটেলের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। বিকল্প যাত্রার সুযোগ দেওয়া হয়। যাঁরা তা নিতে চাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের ব্যবস্থাও ছিল বলে জানিয়েছে IndiGo।
কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক মহিলা যাত্রীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।
IndiGo জানিয়েছে, ওই মহিলা ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরের ডিপার্চার লাউঞ্জে বিমানবন্দরের সম্পত্তির ক্ষতি করেন। ঘটনাটি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সময় সেখানে CISF, IndiGo এবং Airports Authority of India বা AAI-এর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
AAI-এর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলা একটি মনিটর, একটি কিবোর্ড এবং একটি পাসপোর্ট-স্ক্যানিং মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
এই ভাঙচুরের ফলে প্রায় ৪৯ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিওও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে বিমানবন্দরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার পর IndiGo ওই যাত্রীকে ‘আনরুলি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তাঁকে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সংস্থার বক্তব্য, তাদের নির্ধারিত Standard Operating Procedure বা SOP মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বিমান বাতিল হওয়া নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ তৈরি হওয়া নতুন ঘটনা নয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে বিমান বাতিল হলে যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনা বদলে যায়।
তবে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো নষ্ট করার অভিযোগ পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
এই ঘটনায় এখন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর সম্পত্তির জন্য পরবর্তী কোনও আইনি বা আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
IndiGo-র বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণে বিমানটি বাতিল করা হয়েছিল। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা এবং রিফান্ডের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।
তাই বিমানবন্দরে এমন ভাঙচুরের ঘটনা যাত্রী আচরণ এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে।