India Arms Exports
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি নতুন প্রতিবেদনে ভারতকে নিয়ে বড় দাবি করা হয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, গাজা সংঘাত চলাকালীন সময়েও ভারত ইজরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এই দাবি সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভারতও এমন একটি দেশ, যেখান থেকে ইজরায়েলে সামরিক সামগ্রী পৌঁছেছে। সংস্থার দাবি, এই রফতানি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, যেসব দেশে সশস্ত্র সংঘাত চলছে, সেখানে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অ্যামনেস্টির এই অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
ভারত ও ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন নয়। গত কয়েক দশকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইজরায়েল ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। পাশাপাশি ভারত থেকেও কিছু প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ ও উপকরণ ইজরায়েলে রফতানি হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভারতও এমন একটি দেশ, যেখান থেকে ইজরায়েলে প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত সামগ্রী সরবরাহ হয়েছে। সংস্থার দাবি, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের রফতানি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলছে।
অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
এ কারণে রিপোর্টে উত্থাপিত দাবির বিষয়ে সরকারি অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ইজরায়েল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকেও বিভিন্ন উপাদান ও যন্ত্রাংশ রফতানি হওয়ার তথ্য অতীতে প্রকাশ্যে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, উপাদান, যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা—সবকিছুই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। ফলে কোনও প্রতিবেদনে ‘অস্ত্র রফতানি’ বলা হলেও, তার মধ্যে সম্পূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উপাদান—দুই-ই থাকতে পারে।
অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, গাজা সংঘাত চলাকালীন ইজরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে। সংস্থার দাবি, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ভারত সরকার ভবিষ্যতে এই রিপোর্ট নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, সেটাই এখন দেখার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।