Prosenjit Chatterjee Meets Suvendu Adhikari
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে শুরু করে নানা আলোচনা চলতে থাকে সামাজিক মাধ্যমে। তবে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত জল্পনায় (Prosenjit Chatterjee Meets Suvendu Adhikari) কার্যত ইতি টানলেন অভিনেতা।
প্রসেনজিৎ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। বরং টলিউড শিল্পের ভবিষ্যৎ, বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।
বিকেল ৫টার কিছু পরে নবান্নে পৌঁছন প্রসেনজিৎ। প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠকের পর সন্ধ্যায় বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
অভিনেতা বলেন, বাইরে অনেক জল্পনা চলছে। কিন্তু তার অধিকাংশই সত্যি নয়। তাঁর কথায়, “কফি খেলাম, গল্প করলাম কিছুক্ষণ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কিছুর প্রয়োজন আছে। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন, মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুদিন উপলক্ষে বিশেষ সম্মান এবং শিল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, যদি কোনও দিন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে জানাবেন। তাই বর্তমান বৈঠককে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার আবেদনও করেন তিনি।
কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
এদিন সেই প্রসঙ্গও তোলেন অভিনেতা। তিনি জানান, সেই সাক্ষাৎ ছিল সৌজন্যমূলক। দিল্লিতে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণের সময় তিনি অমিত শাহকে বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ রক্ষার অংশ হিসেবেই ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রেও তিনি একই ব্যাখ্যা দেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনে শিল্পের স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই হয়। সেই কারণেই তিনি নবান্নে গিয়েছিলেন।
প্রসেনজিৎ জানান, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, টলিউডের পরিকাঠামো, শিল্পীদের স্বার্থ, নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণের বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে।
অভিনেতার বক্তব্য, শিল্পের উন্নয়নের জন্য তিনি সব সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত। তবে সেটিকে রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর অন্তত আপাতত রাজনীতিতে তাঁর যোগদানের জল্পনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে নবান্নে তাঁর এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
একদিকে অমিত শাহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা সামনে এলেও অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর অগ্রাধিকার বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতেও রাখবেন।